মানুষ ভোট দিলেই খেলা ঘুরবে, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে সুর মিলে গেল অধীর-শুভেন্দুর
অধীর আবেদন করেন ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার। তারপর মানুষ যাঁকে ভোটে দেবে, সে জিতবে। একই কথা শুভেন্দুরও। তিনি চান জয়-পরাজয় পরের কথা, গণতন্ত্র ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য।
রবিবার রাত পোহালেই উপনির্বাচন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারা। এবার নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে ৩০ কোম্পানির কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছেন নির্বাচন কমিশন। রঘুনাথগঞ্জে ডিসিআরসি কেন্দ্রে চলছে শেষ মুহূর্তের ভোটের নির্বাচনী কাজ। ইভিএম চেকিং থেকে শুরু করে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যস্ততা তুঙ্গে।

২৪৬ বুথ, ভোটার প্রায় আড়াই লক্ষ
নির্বাচনী আধিকারিকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাগরদিঘি বিধানসভা উপনির্বাচনে ২৪৬টি বুথ রাখা হয়েছে। মোট পুলিশ ও সিভিল সেক্টর হচ্ছে ২২টি। মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮২৫ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৫৩৩ জন। মহিলা ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২১ হাজার ২৮৭ জন জন।

তালিকায় রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাগরদিঘি উপনির্বাচনে ভোটার তালিকায় রয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারও। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ৫ জন। পাশাপাশি ১৮-১৯ বছরের ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার ২৫১ জন, ৮০ বছরের ওপরে ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ২৬৮ জন। সব থেকে নজরকাড়া ১০০ বছরের বেশি বয়সের ভোটার সংখ্যা হল ৮ জন।

মাধ্যমিক পরীক্ষার সুচিতেও বদল
জেলা প্রশাসন সূত্রে এও জানা গিয়েছে যে, পোস্টাল ভোটার সংখ্যা ১৫৩২ জন। যার মধ্যে ৯৪০ জন পুরুষ ও ৫৯২ জন মহিলা রয়েছেন। সার্ভিস ভোটার রয়েছে ২৮৯ জন যার মধ্যে পুরুষ ২৮০ জন, মহিলা ৯ জন বলে জানা গিয়েছে। সাগরদিঘির বিধানসভা উপনির্বাচনের জন্য মাধ্যমিক পরীক্ষার সুচিতেও বদল করা হয়েছে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিকের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। ২৭ ফেব্রুয়ারির বদলে পরীক্ষা হবে ১ মার্চ।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উপনির্বাচন অ্যাসিড টেষ্ট
এবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই হবে। শনিবার শেষ হয়েছে নির্বাচনী প্রচার। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এই উপনির্বাচনকে অ্যাসিড টেষ্ট মনে করছে সমস্ত রাজনৈতিক দল। বিরোধী দলনতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের বুথ দখল রুখতে সমস্ত রাজনৈতিক দলের এজেন্টদের জোট বাঁধার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে আর প্রহসনের ভোট করতে দেবেন না। ভালো ভোটই হবে বলে মনে করছেন তিনি।

তৃণমূলের মোকাবিলা করবে সাগরদিঘির মানুষ
এদিকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘি বিধানসভার যে সমস্ত সীমান্ত এলাকায় নির্বাচন নেই সেখানে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীকে মোতায়ন করা হচ্ছে। ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ভোটে জিততে চাইছে তৃণমূল। কিন্তু সাগরদিঘির মানুষ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁরা তাঁদের অধিকার ঠিকই বুঝে নেবে। তৃণমূলের মোকাবিলা করতে সাগরদিঘির মানুষ প্রস্তুত।

জয়-পরাজয় পরের কথা, গণতন্ত্র ফেরানোই লক্ষ্য
অধীর চৌধুরী বলেন, যাঁকে খুশি ভোট দিন, কিন্তু আপনার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। পঞ্চায়েতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। এই মর্মে তিনি নির্বাচন কমিশনকে আবেদন করেন। আবেদন করেন ভোটগ্রহণকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার। তারপর মানুষ যাঁকে ভোটে দেবে, সে জিতবে। একই কথা শুভেন্দুরও। তিনি চান জয়-পরাজয় পরের কথা, গণতন্ত্র ফেরানোই প্রধান লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications