Paris Olympics 2024: অ্যাথলেটিক্স থেকে বক্সিং রিংয়ে! কোন চ্যালেঞ্জ সামলে নিখাত অলিম্পিক্সে সোনা টার্গেট করছেন?
Paris Olympics 2024: প্যারিস অলিম্পিক্সের বক্সিংয়ে ভারতের পদক জয়ের বড় দাবিদার নিখাত জারিন। প্যারিসে যাচ্ছেন টোকিও অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জজয়ী লাভলিনা বরগোঁহাইও।
তবে ২০২২ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৫২ কেজি বিভাগে সোনা জেতা নিখাত অলিম্পিক্সে এবার সোনা জিতবেন বলে প্রত্যাশা সারা দেশের। নিখাত নিজেও প্রত্যয়ী পদকের রং বদলাতে।

উল্লেখ্য, আজ অবধি ভারত অলিম্পিক্সে মাত্র ২টি ব্রোঞ্জ জিততে পেরেছে। ২০১২ সালে লন্ডন গেমসে ব্রোঞ্জ পান এমসি মেরি কম। যা মহিলাদের বক্সিংয়ে ভারতের প্রথম পদক। এরপর টোকিওতে ব্রোঞ্জ জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল লাভলিনাকে। ফলে সোনা বা নিদেনপক্ষে রুপোই টার্গেট নিখাতের।
নিখাত আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনায় খুব ভালো ছিলেন না। অ্যাথলেটিক্সের ১০০ ও ২০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতেন। হঠাৎ ট্রেনিংয়ের সময় তাঁর মাথায় প্রশ্ন আসে, বক্সিংয়ে কেন মেয়েদের বিশেষ দেখা যায়না ? সটান বাবার কাছে তা জানতে চান।
নিখাতের বাবা বলেন, অনেকের ধারণা বক্সিংয়ে যে শারীরিক শক্তি বা সক্ষমতার দরকার হয় সেক্ষেত্রে খামতি রয়েছে মেয়েদের। সে কথা শুনেই নিখাত ঠিক করেন তিনি বক্সিংকেই বেছে নেবেন। মানুষের ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে। ফলে ট্র্যাক থেকে সটান রিংয়ে।
নিখাতের মা চেয়েছিলেন মেয়েকে অ্যাথলেটিক্সেই দেখতে। বক্সিং বেছে নেওয়া তিনি ভালোভাবে নেননি। ছেলেদের সঙ্গে অনুশীলন করতে হতো। প্রথম দিন বাড়ি ফিরেছিলেন যখন নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল, চোখেও আঘাত লেগেছিল। নিখাতের মা কেঁদে ফেলেন তা দেখেন। বলেছিলেন, এ কারণেই বক্সিংয়ে চাইনি নিখাতকে।
হাড় ভাঙলে বা মুখ বিকৃত হলে মেয়ের বিয়ের জন্য পাত্র কীভাবে পাবেন তা নিয়েই চিন্তিত ছিলেন নিখাতের মা। নিখাত মাকে বলেছিলেন, আমি বক্সিংয়ে খ্যাতি পেলে বিয়ে করার জন্য পাত্রদের লম্বা লাইন থাকবে। ২০০৯ সালে বক্সিংয়ে এসে ২০১১ সালে যুব বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেই ব্যাপক সাফল্য পান।
এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। এবার প্রথমবার অলিম্পিক্সে নামতে চলেছেন নিখাত। তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা দিই। পদক জিতেছি। তার ব্যতিক্রম হবে না অলিম্পিক্সেও। দেশবাসী চাইছেন আমি পদক জিতি, আমারও এটি স্বপ্ন।
দেশবাসীর প্রত্যাশা তাঁর উপর বাড়তি চাপ তৈরি করে না, উল্টে ফোকাস আরও বাড়াতে সহায়ক হয়, দাবি নিখাতের। তাঁর কথায়, আমি স্বপ্ন দেখতাম মানুষ আমাকে নিয়ে প্রত্যাশা করবেন, আমার কঠোর পরিশ্রম নিয়ে আলোচনা হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে। আমাকে পদক জয়ের দাবিদার মনে করা হচ্ছে, এটা আমার কাছে আশীর্বাদ।
সব প্রতিযোগিতার মতো অলিম্পিক্সের আগেও নিখাত তাঁর দৃষ্টি যাতে অন্যদিকে না সরে সে বিষয়ে সতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকছেন। অলিম্পিক্সে ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা কেন এত কম সোনা জিতেছেন, কোথায় সমস্যা, সেই প্রশ্নের উত্তর জানেন না নিখাত। তাঁর কথায়, অলিম্পিক্সে নামলে হয়তো কিছুটা উপলব্ধি করতে পারব।
নিখাতের সঙ্গে মেরি কমেরও তুলনা হয়। তবে নিখাতের কথায়, মেরি কম সকলের অনুপ্রেরণা। ছ-বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। সেই রেকর্ড আজকের দিনে ভাঙা বা সেই কীর্তি স্পর্শ অসম্ভব। তবে অলিম্পিক্সে আমি নিজের সেরাটাই দেব। আগে আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছি। এবার দেশকে রুপো বা সোনা এনে দিতে চাই।
নিখাত বক্সিং কেরিয়ার শুরুর সময়েও ভাবেননি এতটা এগোতে পারবেন। বক্সিংয়ে তাঁর রাজ্য (আগে অন্ধ্রপ্রদেশ, এখন তেলঙ্গানায়)-এ বিশেষ প্রতিযোগিতা ছিল না। ফলে বক্সিংয়ে সাফল্য পেয়ে সরকারি চাকরি পাওয়াই প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল। জাতীয় স্তর অবধি ভালো খেলার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়েছিলেন।
নিখাত জানালেন, তিনি কারও অনুপ্রেরণা হিসেবে নিজেকে দেখেন না। তবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পর অনেকে তাঁকে জানিয়েছেন, তাঁদের মেয়েদের বক্সিংয়ে দিতে চান। নিখাত তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতে পারবেন কিনা। নিখাত বলেন, এখন সেটা সম্ভব নয়। তবে অবসরের পর ভবিষ্যতের নিখাত তুলে আনতে তিনি যে কোচিংয়ে আসবেন, সে কথাও জানিয়ে রাখলেন।
নিখাত ২০২২ সালে ইস্তানবুলে ফ্লাইওয়েট ও গত বছর দিল্লিতে লাইট ফ্লাইওয়েটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছেন। ২০২২ সালে হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে জেতেন ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালে কমনওয়েলথ গেমসে তিনি সোনা জিতেছিলেন। ২০১৯ সালে ব্যাঙ্ককে ফ্লাইওয়েট বিভাগে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications