Divya Deshmukh: খেলার থেকেও মহিলাদের রূপ নিয়ে চর্চা অধিক, দর্শকদের ব্যবহারে প্রতিবাদে সরব হলেন দিব্যা দেশমুখ
বর্তমান সময়ে ভারতীয় মহিলা দাবাড়ুদের মধ্যে অন্যতম চর্চিত নাম দিব্যা দেশমুখ। সদ্য অষ্টাদশী এই মহিলা দাবাড়ু ৬৪ খোপের খেলায় ইতিমধ্যেই বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। কিন্তু বিদেশে খেলতে গিয়ে দর্শকদের কুনজরে পড়লেন ভারতীয় এই মহিলা দাবাড়ু। যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন দিব্যা।
সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে একটি প্রতিযোগিতয়ায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন দিব্যা। ডাচদের দেশে দাবা প্রতিযোগিতায় ফলাফল একেবারেই ভালো হয়নি তাঁর। ১২তম স্থানে টুর্নামেন্টে শেষ করেন ভারতীয় এই মহিলা দাবাড়ু। কিন্তু প্রতিযোগিতা শেষেই মহিলা খেলোয়াড়দের প্রতি ভিন্ন ব্যবহার নিয়ে সরব হয়েছেন দিব্যা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লম্বা বিবৃতি দিয়ে নিজের ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেছেন দিব্যা।

একইসঙ্গে দীর্ঘ বার্তায় দিব্যা আরও উল্লেখ করেছেন, 'সদ্য সমাপ্ত টুর্নামেন্টে আমি বেশ কিছু ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করেছিলাম। যা নিয়ে আমি গর্বিত। কিন্তু আমি দেখলাম দর্শকদের কাছে সেটা মূল্যহীন। দর্শকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আমার চুল কেমন? আমার কথা বলার স্টাইল কেমন? আমি কেমন পারফরম্যান্স করলাম সেটা দর্শকরা দেখলেন না। এটা আমার খুব খারাপ লেগেছে।'
এখানেই থেমে থাকেননি বরং লিঙ্গ বৈষম্যের প্রতিও সরব হয়েছেন দিব্যা। তাঁর কথায়, 'পুরুষ খেলোয়াড়দের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয় না। পুরুষ ক্রীড়াবিদদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সময় কখনই তাঁদের রূপ নিয়ে কথা বলা হয় না। অথচ মহিলাদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে সৌর্ন্দয্য নিয়ে বেশি কথা বলা হয়। এটা একেবারেই কাম্য নয়। এটা বেদনাদায়ক।'
দিব্যা লিখেছেন, 'প্রতিটি অপ্রাসঙ্গিক জিনিসের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয় এবং ঘৃণা করা হয় যখন ছেলেরা সম্ভবত একই জিনিসগুলি নিয়ে দূরে সরে যাবে। আমি মনে করি মহিলারা প্রতিদিন এটির মুখোমুখি হন এবং আমি সবেমাত্র ১৮ বছর বয়সী।আমি বিগত বছর ধরে ঘৃণা সহ অনেক বিচারের মুখোমুখি হয়েছি যেগুলি এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি মনে করি নারীদের সমান সম্মান পাওয়া শুরু করা উচিত।'
দিব্যার এই পোস্চের পরই আরও এক মহিলা গ্র্যান্ড মাস্টার সুসান পোলগার লিখেছেন, আমি যখন তরুণ দাবা খেলোয়াড় ছিলাম, তখন আমার বয়স ২০ বছর না হওয়া পর্যন্ত আমি কখনও মেকআপও স্পর্শ করিনি। দুটি প্রধান কারণ ছিল। আমি পুরুষ দাবা খেলোয়াড়দের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়ে ক্লান্ত ছিলাম। আর আমরা এতই গরিব ছিলাম যে আমার কাছে অভিনব কাপড়ের টাকা ছিল না। দাবা খেলায় এই ধরনের ব্যবহার এবং বৈষম্য আজও জারি আছে।’












Click it and Unblock the Notifications