বিওএর ফ্লপ শো! অপমান মন্ত্রী মনোজকে, চন্দন-স্বরূপরা খেলাকে ব্যাকফুটে পাঠিয়ে মাতলেন নাচ-গানে
বিওএর শতবর্ষের সমাপ্তি। সেখানে কেকেআরের থিম সং! বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠান। সেখানে বাংলা গান হাতে গোনা। সিংহভাগ চটুল হিন্দি গান।
ক্রীড়াবিদদের অনুষ্ঠানে ঊষা উত্থুপ ধরলেন, দম মারো দম। নাচাগানার পর মনে পড়ল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের কথা! ছত্রে ছত্রে বিতর্ক বিওএর ফ্লপ শো-য়।

দেদার বিলানো হলো বিওএর টি শার্ট। কেউ পরলেন। কেউ আবার সেটির সঙ্গে খাবারের প্যাকেট নিয়ে নেচে ঘেমেনেয়ে ধরলেন বাড়ির পথ। দেখা গেল, চারটি ছেলেকে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে শেখানো বুলি বলেও রক্ষা হলো না। জানা গেল লোক ভরাতে টালিগঞ্জ থেকে ধরে আনা হয়েছে। বাংলায় প্রচুর ক্রীড়াবিদ দেখাতে। আসলে এদের তৃণমূলের মিছিল মিটিংয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। উপভোক্তাদের ধরে আনা হয়েছে এটা মন্ত্রীদের দেখাতে, বিওএ কত সক্রিয়।
জাতীয় গেমসে পদকজয়ীদের অনেকেই আসেননি। তাঁদের সংবর্ধনার সময় ফাঁকা নেতাজি ইনডোর। এমনকী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস যখন দামি কথা বলছেন তখন দর্শকাসন অনেক ফাঁকা। অরূপ বিশ্বাস বললেন, জাতীয় গেমসে পদকের নিরিখে ১৮ থেকে আটে এসেছি ভালো কথা। কিন্তু বিওএর ২৪টি ক্রীড়া সংস্থা পদক পায়নি। এমনটা চলতে পারে না। সরকার একেকটি খেলার জন্য অফিসার রেখেছে। তাঁরা ২৪ ঘণ্টা সজাগ থাকেন। তারপরেও কেন পদক আসবে না? এক নম্বর জায়গা দখলে সবাইকে ভালো করতে হবে। বিওএ বৈঠক করে খতিয়ে দেখুক।
বিওএতে বদল এসেছে। কিন্তু আইএফএতে কল্কে না পাওয়া স্বরূপ বিশ্বাস রাজ্য গেমসের চেয়ারম্যান হয়ে নিজেকে বিরাট কিছু ভাবছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতেও পিছপা হন না। খেলার অনুষ্ঠানে বিরক্তিকর নাচা-গানা। টলিউডের নৃত্যশিল্পী এনে সস্তা চমকের চেষ্টা।
রাজ্য গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, সুজিত বসু থাকলেও কার্ডে নাম ছিল না ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারির! এমনটা কেন হলো? জানেন না বিওএ সভাপতি চন্দন রায় চৌধুরী।
বিওএর প্রাক্তন সভাপতি বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় এলেও তাঁকে মঞ্চে ডেকে সৌজন্য দেখানো যেত। বিওএর শতবর্ষের সূচনা হয়েছিল তাঁর সময়েই। তবে চন্দন, স্বরূপরা সৌজন্য বলে শব্দটা জানলে তো!
সাংবাদিকদের জন্য ন্যূনতম বসার বন্দোবস্ত ছিল না। পদকজয়ীদের রিসিভ করার কেউ ছিলেন না। খাবারের প্যাকেট থেকে যাতায়াতের খরচ পেলেন না পদকজয়ীরা। বিওএর লোকজন বলেন, তথাকথিত ছোট খেলা মিডিয়া কভারেজ ঠিকভাবে পায় না। কিন্তু বিওএ নিজেই কতটা অপদার্থ বোঝা গেল এদিনের অনুষ্ঠানে।
এক প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক বললেন, স্বরূপদের হাতে বিওএর অন্তর্জলি যাত্রা ত্বরান্বিত হবে। এদিন জানা গেল এক প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ভিনরাজ্যের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন। যেখানে বিওএ এখন খেলাকে পিছনে ফেলে নাচা গানায় ডুবে সেখানে এটাই অবশ্য স্বাভাবিক। বিওএ সাংবাদিকদের ডাকে, কিন্তু ন্যূনতম সম্মান দিতে জানেন না স্বরূপরা। অপেশাদারিত্ব কতটা? যোগাসনে পদকজয়ীদের ট্র্যাকস্যুট পর্যন্ত এদিন দিতে পারেনি বিওএ। ফলে আমরা-ওরা করতে গিয়ে খেলার কপালে চন্দন পরিয়ে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে মৃত্যুমুখে ঠেলা হচ্ছে, ক্রমশ ইগো, হিংসায় প্রকাশ পাচ্ছে বিওএর স্বরূপ।












Click it and Unblock the Notifications