কে কোথায় এগিয়ে, একুশের নির্বাচনের আগে ঘাটালের সাত কেন্দ্রের অবস্থা
কে কোথায় এগিয়ে, একুশের নির্বাচনের আগে ঘাটালের সাত কেন্দ্রের অবস্থা
১৯-এ হাফ আর একুশে সাফ। বিজেপির স্লোগান। অন্যদিকে তৃণমূলও এক চুলও জায়গা ছাড়তে রাজি নয়। কেননা এটা তাদের শুধু নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হাওয়ার লড়াই। ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে বিজেপি বলেছিল অন্তত ২২ টা আসন তারা পাবেই। সেই জায়গা থেকে তারা ১৮ টা আসন দখল করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ২০০ আসনের ডাক দেওয়া বিজেপি কতগুলি আসন পায় তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

২০১৬-তে ঘাটালের অন্তর্গত সাত কেন্দ্রের ফলাফল
ঘাটাল লোকসভার অন্তর্গত সাতটি বিধানসভা হল পিংলা, পাঁশকুড়া পশ্চিম, দাসপুর, ঘাটাল, সবং, কেশপুর এবং ডেবরা। এই কেন্দ্রগুলির মধ্যে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানভাটি পূর্ব মেদিনীপুরের অন্তর্গত। বাকি সবগুলি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্তর্গত। ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে সাতটি কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস।

২০১৯-এ ঘাটালের অন্তর্গত সাত কেন্দ্রের ফলাফল
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে তৃণমূল সবং, পিংলা, দাসপুর, ঘাটাল, কেশপুর এগিয়ে ছিল। বিজেপি এগিয়ে ছিল পাঁশকুড়া পশ্চিম, ডেবরায়। সবং, পিংলা, ঘাটালের তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ব্যবধান ছিল খুবই কম। কিন্তু কেশপুর কেন্দ্রে তৃণমূলের থেকে বিজেপি প্রার্থী পিছিয়ে ছিলেন প্রায় ৯০ হাজার ভোটে।

কেন্দ্র: পিংলা
২০১৬-তে পিংলায় তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন মহাপাত্র জয়ী হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রার্থী ছিলেন ডিএসপির প্রবোধ সিনহা। অন্যদিকে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে পিংলা থেকে তৃণমূল প্রার্থী দেব এগিয়ে ছিলেন দেড় হাজারের কিছু বেশি ভোটে। তাঁর নিকটতম প্রার্থী ছিলেন বিজেপির ভারতী ঘোষ। ২০২১-এর লড়াইয়ে কে টেক্কা দেন, এখন সেটাই দেখার।

কেন্দ্র: পাঁশকুড়া পশ্চিম
২০১৬-র নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের ফিরোজা বিবি। তাঁর নিকটতম প্রার্থী ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাস ঠাকুর। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী তৃণমূল প্রার্থীর থেকে এগিয়ে ছিলেন প্রায় ৩ হাজারের মতো ভোটে। ফলে এই কেন্দ্রেও এবারের লড়াই বেশ জোরদার।

কেন্দ্র: দাসপুর
২০১৬-তে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের তরফে জয়ী হয়েছিলেন মমতা ভুঁইয়া। তিনি একলক্ষ তেরো হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামপ্রার্থী স্বপন সাঁতরা।
২০১৯-এর নির্বাচনে দাসপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন প্রায় ১০ হাজারের মতো বেশি ভোটে। এই কেন্দ্রে কে কাকে টেক্কা দেন এখন সেটাই দেখার।

কেন্দ্র: ঘাটাল
২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের শঙ্কর দোলই। তিনি পেয়েছেন প্রায় একলক্ষ সাড়ে সাতহাজার ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বামেদের তরফে কমলচন্দ্র দলুই।
২০১৯-এর নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ঘাটাল কেন্দ্র থেকে এগিয়ে ছিলেন প্রায় ছয় হাজারের মতো বেশি ভোটে। এই কেন্দ্রে তাই এবারের লড়াই বেশ জোরদার।

কেন্দ্র: সবং
২০১৬-তে এই কেন্দ্র থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে মানস ভুঁইয়া জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পরে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভায় চলে যান। ২০১৭-তে তাঁর স্ত্রী তৃণমূলের হয়ে এই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছিলেন। এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।
২০১৯-এর নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সবং কেন্দ্র থেকে এগিয়ে ছিলেন প্রায় ছয় হাজারের মতো ভোটে। ফলে ২০২১-এর ভোটে এই কেন্দ্রে লড়াই বেশ জোরদার।.

কেন্দ্র: কেশপুর
২০১৬-তে তৃণমূল প্রার্থী শিউলি সাহা লাখখানেকের বেশি ভোটে সিপিএম প্রার্থীকে হারিয়ে দিয়েছিলেন।
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন প্রায় ৯২ হাজারের মতো ভোটে। বিজেপির দাবি এই কেন্দ্রে ব্যাপক রিগিং-এর ফল এটা। তাই ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে সবাইকেই।

ডেবরা
২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের সেলিমা খাতুন। তিনি ৯০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন বামপ্রার্থী জাহাঙ্গির করিম।
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী এগিয়ে ছিলেন প্রায় চার হাজার ভোটে। তৃণমূলের এই কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়ার ঘটনা রাজনৈতিক শিবিরে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।












Click it and Unblock the Notifications