নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতার আত্মসমর্পণ আদালতে, জেলযাত্রা তবু আটকানো গেল না
ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় শনিবার হলদিয়া আদালতে এসে আত্মসমর্পণ করেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা আবু তাহের। দীর্ঘদিন ধরে ফেরার থাকার পর এদিন হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ করেন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। এরপর হলদিয়া আদালতে বিচারক তাঁকে তিন দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়।
আত্মসমপর্পণ করেও এদিন জেলযাত্রা আটকাতে পারলেন না তৃণমূল নেতা। অর্থাৎ তিনি জামিন পেলেন না। তাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলে থাকতে হবে। তারপর তাঁকে ফের পেশ করা হবে আদালতে। এর আগে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে দরবার করেও কোনও সুবিধা করতে পারেননি আবু তাহের।

সিবিআই বারবার নোটিশ পাঠিয়েছিল আবু তাহেরকে। কিন্তু আবু তাহের হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এদিকে নোটিশের পর নোটিশে চাপ বাড়ছিল তৃণমূল নেতার। চাপ কাটাতে তিনি হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সেখানে ধাক্কা খেয়ে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। তারপর আর কোনও রাস্তা মেলেনি।
সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে আত্মসমর্পণের পরামর্শ দেয়। সেই মোতাবেক শনিবার আত্মসমর্পণ করেন শাসকদলের নেতা। ভোটের পর নানা জায়গায় অশান্তির মামলায় নাম জড়ায় আবু তাহের, শেখ খোশনবিসদের। চিল্লগ্রামে বিজেপি কর্মী দেবব্রত মাইতির হত্যা মামলা-সহ একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম জুড়েছিল। এমনকী হুলিয়া জারিও হয়েছিল।
তবে তাঁদের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন আবু তাহের। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খাওয়ার পর তিনি আত্মসমর্পণ করলেন। সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন বেপাত্তা ছিলেন তিনি। শনিবার দুপুরে হলদিয়া কোর্টে আত্মসমর্পণ করতে আসেন। সঙ্গে আসেন পুত্র এবং আইনজীবী।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরদিন নন্দীগ্রামজুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালানোর অবিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সেইসময় বিজেপিকর্মী দেবব্রত মাইতিকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় দেবব্রতর।
তারপর ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার তদন্তভার ওঠে সিবিআইয়ের কাঁধে। সেখানে শাসকদলের অনের নেতা নেত্রীর নাম উঠে আসে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এজেন্ট শেখ সুফিয়ান। সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে ছিল আবু তাহেরের নাম। প্রথম থেকেই সিবিআই জেরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন আবু তাহের।












Click it and Unblock the Notifications