বিজেপির সমর্থন তৃণমূলের চেয়ারম্যান! আজব-কাণ্ড বাংলারই এক পুরসভায়, কেন এমন ঘটল
বিজেপির সমর্থন তৃণমূলের চেয়ারম্যান! আজব-কাণ্ড বাংলারই এক পুরসভায়, কেন এমন ঘটল
বিজেপির সমর্থনে পুরসভার চেয়ারম্যান হলেন তৃণমূল কাউন্সিলর। তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থীর হার হল বিজেপি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ প্রার্থীকে সমর্থন করায়। তৃণমূল বনাম তৃণমূল লড়াইয়ে বিজেপির সমর্থনে জিতে পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ার পুরসভায় চেয়ারম্যান হলেন অদ্যুৎ মণ্ডল। বিজেপির দুই কাউন্সিলর তৃণমূলেরই এক প্রার্থীকে সমর্থন করে জয়যুক্ত করেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ার পুরসভায় তৃণমূলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না। বিতর্ক ছিল চেয়ারম্যান পদ নিয়ে। কে হবেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। সেই দ্বন্দ্ব গড়ায় ভোটাভুটিতে। চেযারম্যান পদে তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থী ছিলেন সন্ন্যাসী দোলুই। কিন্তু তাঁকে চেয়ারম্যান পদে মানতে না পেরে তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হন তৃণমূলেরই অদ্যুৎ মণ্ডল।
তারপর ভোটাভুটি শুরু হয়। ভোটাভুটিতে তৃণমূলের আটজন কাউন্সিলর চারজন চারজন করে ভাগ হয়ে যায়। তারপর বিজেপির দুই কাউন্সিলরের ভোটে অদ্যুৎ মণ্ডল চেয়ারম্যান পদের জন্য ভোটাভুটিতে জয়ী হন। তৃণমূলের প্রস্তাবিত প্রার্থী সন্ন্যাসী দোলুই পরাজিত হন। বিজেপির সমর্থনে চেয়ারম্যান হয়ে তিনি বলেন, আমি তৃণমূলের কাউন্সিলর। তৃণমূলের বিরোধী আমি নই, দলরে কিছু বিষয় নিয়ে আমার আপত্তি রয়েছে। এটা তার বিরুদ্ধেই প্রতিবাদ। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীকে মানতে না পেরেই আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছি।
তিনি বলেন, বিজেপির কাউন্সিলরদের কাছে কোনও সমর্থন চাইনি। তারা মনে করেছে, আমাকে ভোট দিয়েছে। সেই দায় আমার নয়। আমি তৃণমূলের সদস্য, তৃণমূলের কাউন্সিলর। দলের কাউন্সিলরদের নিয়েই আমি কাজ করব। খড়ার পুর এলাকার সর্বত্রই উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়াই আমার লক্ষ্য।
শুধু পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়ার পুরসভা নয়, এই ধরনের সমস্যার তৈরি হচ্ছে রাজ্যের বহু পুরসভায়। কালনায় তৃণমূলের ১২ জন কাউন্সিলর দলের ঘোষিত চেয়ারম্যানকে নিয়ে আপত্তি জানালেন। তাঁরা ওই চেয়ারম্যানকে মানবেন না বলেও জানিয়ে দিলেন। কালনা পুরসভার নতুন চেয়ারম্যান আনন্দ দত্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছেন দলের ১২ জন কাউন্সিলর।
তৃণমূলের ওই ১২ জন কাউন্সিলর চেয়ারম্যান হিসেবে চান উপ পুরপ্রধান তপন পোড়েলকে। এই দাবিতেই তাঁরা প্রতিবাদ জানান। আবার আনন্দ দত্তের সমর্থনে একদল বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ফলে তৃণমূলের দুই পক্ষ সম্মুখ সমরে অবতীর্ণ হয়। শেষমেশ পুলিশকে নির্দেশ দিতে হয় বিক্ষোভ দমনের জন্য। দলের প্রস্তাবিত প্রার্থীকেই মেনে নিতে হবে চেয়ারম্যান পদে। এমনটাই মত স্বপন দেবনাথের। অন্যথায় দল বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা নেবে।












Click it and Unblock the Notifications