‘২০১১ থেকে বিরোধী দল কংগ্রেস-সিপিএম, তৃণমলের দুর্নীতি প্রকট হয়েছে শুভেন্দু দলনেতা হতেই’
২০১১ সাল থেকে সিপিএমের বিরোধী দলনেতা ছিল, ২০১৬ সাল থেকে বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের। কাউকে দেখেছেন আওয়াজ তুলতে। একুশে তিনি বিরোধী দলনেতা হতেই গ্রেফতারি শুরু।
বামফ্রন্ট থেকে তৃণমূল কংগ্রেস, এমনকী সাগরদিঘিতে জেতা কংগ্রেসকেও ছেড়ে কথা বললেন না বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব মেদিনীপুরে মহিষাদলে বিজেপির কর্মিসভা থেকে তিনি বলেন, সিপিএম বা কংগ্রেস বিরোধী দল হিসেবে ব্যর্থ। আমি ২০২১-এ বিরোধী দলনেতা হতেই তৃণমূলের দুর্নীতি প্রকট হয়েছে, শুরু হয়েছে গ্রেফতারি।

সব আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূলের নেতারা
শুভেন্দু এদিন বলেন, বাংলার মানুষকে ৪০ লক্ষ বাড়ি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেই বাড়ি কি সাধারণ মানুষ পেয়েছেন? তৃণমূল নেতারা প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ি নিয়ে নিয়েছে। কখনও কি দেখেছেন তার বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস বা সিপিএম। ওরা কোনও বিরোধিতা করেনি। শুধু আবাস যোজনা কেন, ফসল বিমান যোজনা বা বাগান করার টাকা আপনারা পেয়েছেন, পাননি। সব আত্মসাৎ করেছেন তৃণমূলের নেতারা।

বামফ্রন্ট ও তৃণমূল হল একই মুদ্রার দু-পিঠ
শুভেন্দু বলেন, ২০১১ সাল থেকে সিপিএমের বিরোধী দলনেতা ছিল, ২০১৬ সাল থেকে বিরোধী দলনেতা কংগ্রেসের। কাউকে দেখেছেন আওয়াজ তুলতে। ২০২১-এ আমি বিরোধী দলনেতা হয়ে আসার পর একের পর এক দুর্নীতি সামনে এসেছে। গ্রেফতার হচ্ছে। তাই বাংলার মানুষের কাছে বিজেপি ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। বামফ্রন্ট ও তৃণমূল হল একই মুদ্রার দু-পিঠ।

রাষ্ট্রবাদী বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন দরকার বাংলায়
তিনি বলেন, বাংলায় ২৫ বছর কংগ্রেসকে দেখেছে মানুষ, ৩৪ বছর দেখেছে সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে। আর ১৩ বছর দেখছে তৃণমূলকে। কিন্তু এখনও দেখেনি বিজেপিকে। বাংলার উন্নয়নে একমাত্র বিকল্প বিজেপি। রাষ্ট্রবাদী বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনই বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।

বামফ্রন্ট ও তৃণমূলের ফারাক বোঝালেন শুভেন্দু
শুভেন্দুর কথায়, বাংলায় বাম সরকার ১ কোটি বেকার রেখে গিয়েছিল, সেখানে তৃণমূল দুকোটি বেকারত্ব উপহার দিয়েছে বাংলাকে। আর বামেরা ঋণ রেখে গিয়েছিল ২ লক্ষ কোটি, তৃণমূল এই ১৩ বছরে ঋণ করেছে মাত্র ৬ লক্ষ কোটি। এর থেকেই স্পষ্ট দুই সরকারই ব্যর্থ। এবার বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকারই একমাত্র পারে বাংলাকে উত্তরণের পথ দেখাতে।

‘নো ভোট টু বিজেপি’ নিয়ে খোঁচা শুভেন্দুর
তিনি এদিন কংগ্রেস ও সিপিএমকে নিশানায় বলেন, আপনারাই তো আওয়াজ তুলেছিলেন না! 'নো ভোট টু বিজেপি'। এখন দেখছেন তো কেমন লাগছে। আপনারা যদি 'নো ভোট টু তৃণমূল' বলতেন বা জনগণের উপর ছেড়ে দিতেন, তাহলে হয়তো এমন দিন দেখতে হ'ত না। সম্প্রতি কংগ্রেসে নেতা কৌস্তভকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছিল সিপিএমের মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে। তাদের গ্রেফতারিতে খোঁচা দিলেন শুভেন্দু।

অধীর চৌধুরীকে তোপ শুভেন্দু অধিকারীর
আর অধীর চৌধুরীকে তোপ দাগলেন ভবানীপুরের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন জানানো নিয়ে। শুভেন্দুর কথায়, আমি যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারালাম. তখন মুখ্যমন্ত্রী হতে তিনি ভবানীপুরে দাঁড়ালেন। একটা জ্যান্ত মানুষকে সরিয়ে তিনি ভবানীপুরে দাঁড়ালেন শুধু মুখ্যমন্ত্রী পদ ধরে রাখার জন্য। সেই নির্বাচনে অধীর চৌধুরী বললেন, কংগ্রেস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করবে। এখন সাগরদিঘিতে হারার পর অধীর চৌধুরীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে পিছপা হচ্ছে না।












Click it and Unblock the Notifications