বিজেপিতে এখন কার হাতে ব্যাটন? মণ্ডল সভাপতি ঘোষণা করেও সুকান্তর পিছু হটায় স্পষ্ট বিভাজন
দুই বঙ্গের দুই তরুণ তুর্কি নেতার উপর দায়িত্ব দিয়ে বিজেপি বাংলায় নতুন করে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু তাঁদের সেই সমীকরণে কি তবে ধাক্কা খেল তমলুক সাংগঠনিক জেলাট চার মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের ঘটনায়।
একুশের নির্বাচনে ভরাডুবির পর দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতি করা হয়। উত্তরবঙ্গ থেকে সুকান্ত মজুমদারকে রাজ্য সভাপতি আর দক্ষিণবঙ্গ থেকে শুভেন্দু অধিকারীকে পরিষদীয় নেতা বা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা করা হয়। দুই বঙ্গের দুই তরুণ তুর্কি নেতার উপর দায়িত্ব দিয়ে বিজেপি বাংলায় নতুন করে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু তাঁদের সেই সমীকরণে কি তবে ধাক্কা খেল তমলুক সাংগঠনিক জেলায় চার মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের ঘটনায়।

শুভেন্দুর জেলায় পিছু হটতে বাধ্য হলেন সুকান্ত
বঙ্গ বিজেপিতে সম্প্রতি দিলীপ ঘোষ বনাম সুকান্ত মজুমদারের একটা অলিখিত লড়াই চলছিলই। আদি-নব্যের সঙ্গে তৎকাল বিজেপির লড়াইও ছিল। এরই মধ্যে বঙ্গ বিজেপিতে দ্বন্দ্ব বাড়ল ফের। মণ্ডল সভাপতিদের নাম নিয়ে বিতর্কে শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় পিছু হটলেন সুকান্ত মজুমদার।

চার মণ্ডল সভাপতির অনুমোদন স্থগিত সুকান্তর
শুভেন্দু-গড় পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও হলদিয়ায় দলের চারটি মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণা করা হয় সম্প্রতি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি চারটি মণ্ডল সভাপতির নাম জানানোর পরই বিতর্ক শুরু হয়। তারপরই সুকান্ত মজুমদার পিছু হটতে বাধ্য হন। তিনি চার মণ্ডল সভাপতির অনুমোদন স্থগিত রাখেন।

বঙ্গ বিজেপিতে এখন কার হাতে ব্যাটন? কে বড়?
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে বঙ্গ বিজেপিতে এখন কার হাতে ব্যাটন? কে বড় নেতা? স্বভাবতই শুভেন্দুর জেলায় যখন মণ্ডল সভাপতি-র নাম ঘোষণা করেও বাতিল হয়ে যায়, তখন সে প্রশ্ন উঠবেই। তবে কি সুকান্ত নয়, শুভেন্দুর কথাই শেষ কথা বঙ্গ বিজেপিতে? বর্তমান চার মণ্ডল সভাপতির নাম ঘোষণার পরও তা স্থগিত করে দেওয়ার দলের অন্দরে এখন জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ও ময়না ব্লকের চার মণ্ডল সভাপতি বেছে নেয় বিজেপি। তাঁদের নামও ঘোষণা করে দেওয়া হয়। কিন্তু শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ দুই বিধায়ক হলদিয়ার তাপসী মণ্ডল ও ময়নার অশোর দিন্দার সেই নাম পছন্দ হয়নি। এরপরই শুভেন্দুর জেলায় মণ্ডল সভাপতিদের অনুমোদন দেওয়া স্থগিত রাখেন সুকান্ত মজুমদার। প্রশ্ন উঠে পড়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের এই ভূমিকা নিয়ে।

রাজ্য সভাপতি সুকান্তকে প্রশ্ন আদি বিজেপি নেতাদের
এরপর বিজেপির আদি নেতারা প্রশ্ন তোলেন, তবে কি নতি স্বীকার করলেন রাজ্য সভাপতি? এই ঘটনায় বিজেপির বিভাজন ফের সামনে তলে এসেছে। বিজেপির আদি নেতারা ক্ষুব্ধ শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় তাঁর দুই অনুগামী বিধায়ককে নিয়ে। সোমবার চার মণ্ডল সভাপতিকে বেছে নেওয়া হয়। ময়না উত্তর ও দক্ষিণের মণ্ডল সভাপতি করা হয় মাধব বেরা ও সুশান্ত মিদ্দেকে। আর হলদিয়া নগর-৩ ও সুতাহাটা-১ মণ্ডলের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় যথাক্রমে দেবাশিস দাশগুপ্ত ও সুরজিৎ মালাকারকে।

বঙ্গ বিজেপি কি তৎকাল নেতাদের হাতে চলে গিয়েছে!
চার জনের নাম ঘোষণার পর রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতিকে জানান, ওই চার জনের সভাপতি হিসেবে অনুমোদন স্থগিত রাখার। এর আগে রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অনুগামী দুই বিধায়ক। এরপর চারজনের নাম নিয়ে রাজ্য সভাপতির পিছু হটা মানতে পারেছেন আদি নেতারা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, তাহলে কি বঙ্গ বিজেপি তৎকাল নেতাদের হাতেই চলে গিয়েছে!












Click it and Unblock the Notifications