নন্দীগ্রাম যা বলেছে তাই হবে! শিশির অধিকারীর বক্তব্যই কি ২০২৪-এর কাঁথির লোকসভা ভোটের ফল?
কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির এবারের প্রার্থী, অধিকারী পরিবারের ছোট ছেলে সৌমেন্দু অধিকারী। রাতদিন প্রচারের মধ্যে অবশেষে বৃহস্পতিবার মনোনয়ন পেশ করলেন সৌমেন্দু। সঙ্গে ছিলেন ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তথা সৌমেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী।
পার্টি সমর্থক হিসাবে ছেলের সঙ্গে নিমতৌড়ি জেলা শাসকের দপ্তরে পৌঁছেছিলেন শিশির অধিকারী। মনোনয়ন জমা করার আগেই পুলিশের বাধা কাটিয়ে নিজের ছেলের সমর্থনে মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি। তবে মনোনয়ন পর্ব শেষ হতেই অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শিশির অধিকারী বলে ওঠেন নন্দীগ্রাম যা বলেছে তাই হবে।

কেন শিশির অধিকারীর মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ,তথা কাঁথি কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ নন্দীগ্রামের ওপর ভরসা করে ২০২৪-এর কাঁথি কেন্দ্রের ফলাফলের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? নন্দীগ্রামই বা কী বলেছে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে জোরালো চর্চার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, 'নন্দীগ্রাম যা বলেছে'-এর অর্থ হিসেবে শিশির অধিকারী বোঝাতে চেয়েছেন, শুভেন্দু অধিকারীর আগেকার বক্তব্যকে। প্রসঙ্গত শুভেন্দু অধিকারীকে বারবার বলতে শোনা গিয়েছে, কাঁথি ও তমলুক দুটো লোকসভায় এবারে বিপুল ব্যবধানে জিততে চলেছে বিজেপি।
একাধিক রাজনৈতিক সভা থেকে শুভেন্দুর সেই বক্তব্যকেই সিলমোহর দিলেন কাঁথির প্রাক্তন সাংসদ শিশির অধিকারী। অর্থাৎ কাঁথিতে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দু অধিকারী জিতছেন, সেই কথা স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন শিশির অধিকারী। তিনি বলেছেন, ফলাফল যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। বাক্স খুললেই ফল জানা যাবে। তবে ব্যবধানের পরিসংখ্যান নিয়ে তেমন কোনও মন্তব্য করেননি তিনি।
ছেলের সমর্থনে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে নিজেই খেলতে চান শিশির অধিকারী, এবিষয়ে বর্ষীয়ান এই নেতা বলেন, তিনি এখনও সুস্থ এবং বেঁচে আছেন। নিজেই খেলবেন কাউকে খেলতে দেবেন না। অনেক খেলা বাকি আছে, এখনও খেলবেন তিনি। তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, এখনও হাতের মুঠিতে যা জোর আছে, সেই মুঠিতেই দেখে নেবেন। অধিকারী পরিবারকে তৃণমূলের খোঁচা নিয়ে শিশির অধিকারী বলেন, এই পরিবার কারও থেকে কিছু নেয়নি, দীর্ঘদিন ধরে মাঠে খেলছে। এবারেও খেলবে।
অর্থাৎ আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে কাঁথি লোকসভা কেন্দ্র যে অধিকারী পরিবারের হাতের মুঠোতেই থাকবে সেটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন শিশির অধিকারী। তবে রাজনৈতিক মলের প্রশ্ন গত ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই কেন্দ্রে একলক্ষের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিল। সেখানে এবার বিজেপি প্রার্থী কী ভাবে জিতবেন? কোথা থেকেই বা এই কেন্দ্রে জেলায় এত আত্মবিশ্বাস অধিকারী পরিবারের? এব্যাপারে তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে কিসের জোরে এত আত্মবিশ্বাস তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ৪ জুন পর্যন্ত।












Click it and Unblock the Notifications