শুভেন্দুর প্রার্থীকে একটু দেখে নেওয়ার আবেদন তৃণমূল নেতাকে! ‘শিশির’-কণ্ঠ নিয়ে জোর চর্চা
পুরভোটের মুখে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আবেদনের একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে শিশির অধিকারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে- শুভেন্দুর প্রার্থী একটু দেখো, বাবা।
পুরভোটের মুখে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আবেদনের একটি অডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে শিশির অধিকারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে- শুভেন্দুর প্রার্থী একটু দেখো, বাবা। অডিও-তে বিজেপি প্রার্থীকে জেতানোর আবেদনে শুভেন্দুর পিতৃদেবের কণ্ঠ বলেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে বেঙ্গলি ওয়ানইন্ডিয়া ওই অডিওএ টেপ যাচাই করেনি।

রণাঙ্গন এবার কাঁথি পুরসভা। সেই কাঁথি পুরসভায় বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে শিশির অধিকারীকে আবেদন করতে শোনা অডিও টেপে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি পুরভোটের আগে নিশ্চিত হার জেনে তৃণমূলের সাংসদকে ময়দানে নামাল বিজেপি। উপায় না পেয়ে তিনি তৃণমূল নেতাকে ফোন করে শুভেন্দু অধিকারীর প্রার্থীকে অর্থাৎ বিজেপির প্রার্থীকে দেখার কথা বলেছেন।
শিশির অধিকারী এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিকদের জানান, ভোট দিতে বলাটা অপরাধ নাকি! এই অবস্থায় পুরসভার ভোটের আগের দিন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কাঁথি পুরসভা শিশির অধিকারী বা শুভেন্দু অধিকারীর হোম টাউন। তবে কি কাঁথিতেও এবার বিজেপি জয় নিয়ে নিশ্চিত নয়, এমন চর্চাও শুরু হয়েছে।
কাঁথি এতদিন ছিল অধিকারীদের গড়। সেখানে শিশির অধিকারীকে যদি অন্য কোনও তৃণমূল নেতাকে ফোন করে অন্য কোনও প্রার্থীকে জোতানোর বা তাঁকে ভোট দেওয়ার কথা বলতে হয়, তাতে একাধারে স্পষ্ট হয়ে পড়ে দৈন্যতা। শিশির অধিকারী তৃণমূল সাংসদ হয়েও আগে বিজেপির মঞ্চে উঠেছিলেন। এবার তিনি যদি ভোট চেয়েই থাকেন, সেটা কোনও অপরাধ নয়। কিন্তু তিনি শিশির অধিকারী, কাঁথিতে তিনি ছিলেন শেষ কথা, তাঁর অবস্থান নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠে পড়ে।
ঠিক কী ধরা পড়েছিল অডিও-তে? প্রথম কণ্ঠস্বর জিজ্ঞাসা করেছিল-কে বলছেন? তখন অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়েছিল- আমি শিশির অধিকারী বলছি বাবা। প্রথম কণ্ঠস্বর বলেছিল- বলুন, স্যর বলুন। আমি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিত্যানন্দ বলছি। তখন শিশির অধিকারী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন- আমার ছেলে বলছিল ফোন করে আপনাকে একবার বলতে। একটু দেখে নিও বাবা। তখন নিত্যানন্দ পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি বলেন- কাকে দেখব স্যর। তখন তার জবাবে তিনি বলেন- শুভেন্দুর প্রার্থী। এরপর নিত্যানন্দে প্রশ্ন, শুভেন্দুর প্রার্থী কে স্যর? তখন শিশির অধিকারী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি বলেন- সে তো আপনাকে দেখতে হবে।
এখানেই শেষ নয় তাদের কথোপকোথন। নিত্যানন্দ এরপর বলেন, শুভেন্দু তো বিজেপি করেন। আপনি তাহলে বিজেপিকে দিতে বলছেন স্যর? তখন শিশির অধিকারী বলে দাবি করা কণ্ঠস্বর বলেন, আমি বলব ভদ্রলোককেদেবেন, চোর-ডাকতকে দেবেন না। তৃণমূলের পার্টিতে যাঁরা আচেন, তাঁরা কেমন তা আমার থেকে ভালো তো আপনি জানেন। আপনি বুদ্ধিমান লোক। আপনি জানেন না, চোর ডাকাত চেনেন না। আমি খুব বিনীতভাবে বলছি। এরপরই নিত্যানন্দ বলেন, স্যর আপনি যদি সাংসদ পদ ছেড়ে ময়দানে নেমে পড়তেন স্যর, তাহলে সব জিতে যেত। তৃণমূল আর মাঠে থাকত না।
এরপরই শিশির অধিকারী পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি তখন জানান, আমি কেন নামব? আপনি তো পাকা জিনিস। না করলে বাদ দিয়ে দিন। না বললে, আপনার বাড়িতে আর কে যাবে। অত বক্তৃতা দেবেন না। ভোটাধিকার তাঁর নিজস্ব অধিকারী। এরপরই নিত্যানন্দ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি বলেন, জয় বাংলা, জয় বাংলা। বুড়ো বয়সে ভীমরতি। ওই অডিওটি সামনে আসার পরই পুরসভা ভোটের আগের দিন তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় সহসভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, এর সঙ্গে পার্টির কোনও সম্পর্ক নেই।
শিশির অধিকারী ও নিত্যানন্দ পরিচয় দিলেও তবে ওই ভয়েস কাদের, তা পরীক্ষিত নয়। শিশির অধিকারী তো স্পষ্ট করেই বলেছেন, ভয়েস রেকর্ডিংটা হায়দরাবাদে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিতে বলুন। আমার ফোন করার কী আচে। তবে যদি কাউকে ভোট দিতে বলি, সেটা তো আর অপরাধ নয়। খাতায়-কলমে শিশির অধিকারী তৃণমূলে থাকলেও শুভেন্দু-সৌমেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পর তিনিও বিজেপিতেই ধরে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে সংসদ পদ খারিজের আবেদনও করে তৃণমূল। এখন কাঁথিতে পুরভোটের আগে শিশিরের কণ্ঠ নিয়ে জোর তরজা।












Click it and Unblock the Notifications