Panchayat Election 2023: অভিষেকের নির্দেশে ‘পদত্যাগী’রাই নির্দল প্রার্থী নন্দীগ্রামে! প্রশ্নে তৃণমূলও
বিজেপির বুথ স্তরের সংগঠন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও, তৃণমূলের সংগঠন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার জায়গা নেই রাজ্যে। বিশেষত দক্ষিণবঙ্গে তৃণমূলের সংগঠন যথেষ্টই শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে। এমনকী শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পরও পূর্ব মেদিনীপুরেও তৃণমূলের সংগঠনে তেমন কোনো ছেদ পড়েনি।
কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহু নেতাকে পদত্যাগ করানোয় সংকট তৈরি হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রাক্কালে। যাঁদের পদত্যাগ করিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এবং অনেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ও পেয়ে গিয়েছেন।'

আবার এই ছবি দেখা গিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। নন্দীগ্রাম ভিন্ন অন্যত্র এমন ছবি সামনে এসেছে। কাঁথির সভা থেকে মারিশদা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ঝুনুরানি মণ্ডল, উপপ্রধান রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও অঞ্চল সভাপকতি গৌতম মিশ্রকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন অভিষেক।
অভিষেকের নির্দেশমতো তাঁরা পদত্যাগও করেছিলেন। তারপর এবার ঝুনুরানি ও গৌতম যথাক্রমে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রার্থী হয়েছেন। এবার তা নিয়েই চর্চা শুরু হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতিতে। তৃণমূল নেতৃত্বের মধ্যে শুরু হয়েছে চাপানউতোর।

নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত নির্বাচনও এবার নজরকাড়া হয়ে উঠছে। তৃণমূল এবার বিজেপিকে টেক্কা দিতে পারে, নাকি বিজেপি গড় ধরে রাখতে সমর্থ হয়, সেদিকে চোখ রাজনৈতিক মহলের। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধরা যেমন এবার প্রার্থী হয়েছেন, তেমনই বিজেপিও অনেক আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি।
শুভেন্দু অধিকারী আবার সেইসব আসনে নির্দল প্রার্থীর উপর ভরসা করছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নন্দীগ্রাম এবার তৃণমূলমুক্ত করে ছাড়বেন। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১১টিতেই তাঁরা জিতবেন। বাকি ছ'টিও যাতে তৃণমূল মুক্ত হয় তিনি সেই ব্যবস্থা করে ফেলেছেন।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম এক নম্বর ব্লকের এক-তৃতীয়াংশ আসনে প্রার্থীই দিতে পারেনি বিজেপি। মনোনয়নের স্ক্রুটনি পর্বে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে বিজেপির সংগঠন নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়ে। যে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়ে বিতর্কিত জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু, সেখানেই বিজেপি কেন বহু আসনে প্রার্থীহীন, তা নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে ধন্দও তৈরি হয়েছে।

পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্বে শাসকদলের বিরুদ্ধে হিংসার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। শাসকের হিংসার বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধীরা বহু আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী-অধীর চৌধুরীরা। তা বলে যে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী দিতে পারবে না, তা ভাবা যায়নি।
কিন্তু এখানে সন্ত্রাস, হিংসা বা ভয়ের জন্য নয়, বিজেপি প্রার্থী দিতে পারেনি সংগঠনের অভাবে। বিজেপির দলীয় প্রতীক না দিয়ে ৬৬টি আসনে নির্দলে ভরসা করতে চাইছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু অধীর প্রশ্ন তুলেছেন, যে নন্দীগ্রামে দিদিকে হারিয়েছেন, সেই নন্দীগ্রামে বিজেপির কেন প্রার্থী নেই, বিজেপির পালোয়ানদেরই জবাব দিতে হবে। তাঁরা কি তবে দিদিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন!












Click it and Unblock the Notifications