Panchayat Election Results 2023: বিজেপি চাইছে তৃণমূল পঞ্চায়েত বোর্ড গড়ুক! আতঙ্কে ভিনরাজ্যে জয়ী প্রার্থীরা
Panchayat Election Reults 2023: জিতেছে বিজেপি। কিন্তু বিজেপিরই পদাধিকারীরা চাইছেন পঞ্চায়েতে বোর্ড গড়ুক তৃণমূল কংগ্রেস! এমনই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া।
পরিস্থিতি এমনই যে, ঘোড়া কেনা-বেচা এড়াতে দুটি পঞ্চায়েতের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন মণ্ডল সভাপতি গোপাল সাউ। চাইছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ।

পঞ্চায়েত ভোটে জিতেও দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না বিজেপি প্রার্থীদের। পাঁশকুড়া ব্লকের কেশাপাট এবং মাইসোরা গ্রাম পঞ্চায়েতে জয়লাভ করে বিজেপি। আর তারপরেই গুরুতর অভিযোগ পঞ্চায়েতের জয়ী প্রার্থীদের। ভোট গণনা শেষ হতেই তৃণমূলের কাছ থেকে আসছে লোভনীয় প্রস্তাব।
কয়েক লক্ষ টাকা থেকে প্রধানের পদ। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার এমনই সব প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি। বিজেপির কয়েকজন জেলা পদাধিকারী তৃণমূলের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়ে পঞ্চায়েত বোর্ডে তৃণমূলকে চাইছেন বলে অভিযোগ। প্রার্থীদের তাঁরাই ফোন করাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

মণ্ডল সভাপতি গোপাল সাউয়ের দাবি, কেশাপাটের কনভেনার লালু মালাকার জেলা কোষাধ্যক্ষ জগদীশ প্রামাণিকের নির্দেশ মেনে জয়ী প্রার্থীদের কাছে সার্টিফিকেট চাইছিলেন। টাকা নিয়ে আপাতত জয়ী প্রার্থীদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন গোপাল। তাঁকে বলা হয়, সবাইকেই গায়েব করে দেব।
ঝুঁকি না নিয়ে কেশাপাট ও মাইসোরা অঞ্চলের বিজয়ী প্রার্থীদের নিয়ে গোপাল ভিনরাজ্যে রয়েছেন। এক প্রার্থীর স্বামীর দাবি, তাঁকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব এসেছিল। স্ত্রীকে প্রধান করা হবে বলেও জানানো হয়। কেশাপাটে তৃণমূল নির্দলকে টেনে ১২টি আসন নিশ্চিত করেছে। বিজেপি থেকে দরকার তিনজনকে।
বিজেপি এই দুটি পঞ্চায়েতেই বোর্ড গঠন করুক, চাইছেন প্রার্থীরা। তাঁরা ভিনরাজ্যে থাকলেও তৃণমূলের লোকজনরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। প্রার্থীদের আশঙ্কা, গরু-ছাগলের মতো কেউ বিক্রি হয়ে গেলে যদি তৃণমূল পঞ্চায়েত বোর্ড গঠন করে তাহলে তো তাঁদের বাড়ি ফেরা নিয়েই দেখা দেবে সংশয়।
বিজেপির সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা কোষাধ্যক্ষ জগদীশ প্রামাণিক-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের সঙ্গে হাত মেলানোর। প্রার্থী তালিকা নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করছেন।

তৃণমূলের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে বলেও দাবি বিজেপির একাংশের। সবমিলিয়ে পঞ্চায়েত ভোটে জিতেও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বোর্ড গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল শিবির বিষয়টিকে বিজেপির কোন্দল বলে চিহ্নিত করেছে। তৃণমূলের দাবি, কখনও কোথাও দল ঘোড়া কেনা-বেচায় নামে না। এই দুই পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে তো প্রয়োজনই নেই।
তবে জেতার পর দুই অঞ্চলের প্রার্থীদের ভিনরাজ্যে গিয়ে গোপন ডেরায় আশ্রয় নেওয়া নজিরবিহীন। যা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।












Click it and Unblock the Notifications