নন্দীগ্রাম আন্দোলন ভিত টলিয়েছিল বাম সরকারের, কিন্তু কিছুই জানতেন না বুদ্ধবাবু

Buddhadeb Bhattacharya: নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শাসনকালে আরও একটি কালো অধ্যায়। নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ ঘিরে তাড়াহুড়ো হয়েছিল। সব কাজ ঠিক হয়নি। পরবর্তী কালে এই বার্তা দিয়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কিন্তু তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। হলদি নদী দিয়ে জল গড়িয়েছে অনেক।

ইন্দোনেশিয়ার সালিম গোষ্ঠী বাংলায় এসইজেড প্রকল্প তৈরি করবে। বিপুল পরিমাণ জমি প্রয়োজন হবে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে ১০ হাজার একর জমি নেওয়া হবে এজন্য। এ কথা ঠিক হয়। কিন্তু কৃষকরা সেই জমি দিতে অস্বীকার করে। ক্ষোভ ক্রমে জমি আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়।

Buddhadeb Bhattacharjee

এই অবস্থায় ২০০৭ সালের ১৪ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক কালো দিন। নন্দীগ্রামে কৃষক আন্দোলনের উপর নির্বিবাদে গুলি চালানো হয়। ১৪ জন ওই ঘটনায় নিহত হয়েছিল। পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের উর্দিতে সিপিএম ক্যাডাররা ছিল। এই অভিযোগও ওঠে। নন্দীগ্রামে কেমিক্যাল হাব হবে। এই কথার ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল জমি আন্দোলন। এক সময় সেখানেও বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস আন্দোলনকে নেতৃত্ব দেয়।

পুলিশ - প্রশাসন জমি আন্দোলনকারীর মধ্যে সংঘাত দীর্ঘ দিন ধরে চলেছিল। উত্তেজনায় রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল গ্রাম। তেখালি ব্রিজের একধার হয়ে গিয়েছিল বদ্ধভূমি। জননী ইটভাটায় মহিলাদের অত্যাচার করা হয়েছে। এমন মারাত্মক অভিযোগও সেই সময় উঠে আসে।

নন্দীগ্রামের ঘটনা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাদা পোশাকে কালির দাগ লাগে। বিরোধীরা কার্যটা একজোট হয়ে তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামে। পথে নেমেছিল সুশীল সমাজও। ক্রমে পরিস্থিতি আয়ত্তের বাইরে চলে যায়। নন্দীগ্রাম আন্দোলন রাজ্যের ইতিহাসে বড় দলিল।

সেই সময় রাইটার্স বিল্ডিংয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন। নন্দীগ্রামে গুলি চালানোর খবর আসে। পুলিশের গুলি চালানোর কোনও নির্দেশ উপর মহল থেকে দেওয়া হয়নি। কোন পরিস্থিতিতে পুলিশ গুলি চালাল? সেই প্রশ্ন উঠেছিল। তিন হাজার পুলিশ বাহিনী নন্দীগ্রামে অপারেশন চালিয়েছিল বলে খবর। দুই হাজার গ্রামবাসীকে প্রতিহত করতে এক ভয়াবহ পেশি আস্ফালন। এমন দাবি করেছিল বিরোধীপক্ষ।

নন্দীগ্রামের ঘটনা সম্পর্কে পরবর্তী কালে বক্তব্য রেখেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তাড়াহুড়ো হয়ে গিয়েছে। মানুষকে বোঝানো সম্ভব হয়নি। সঠিক পদ্ধতিতে জমি অধিগ্রহণ করার ক্ষেত্রে আরও সময় নেওয়া উচিত ছিল। এমনই মত প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।

বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আরও সামনে চলে আসেন। মানুষের জনসমর্থন আরও ব্যাপক আকারে তৃণমূলের পক্ষে যেতে শুরু করে। এক সময় নন্দীগ্রাম গণআন্দোলন তৃণমূলের অন্যতম ইস্যু হয়ে গিয়েছিল।

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার নন্দীগ্রাম আন্দোলনে আরও টলোমলো হয়। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমর্থনে চির ধরেছিল। এ কথা পরবর্তীকালে নিশ্চিত হয়ে যায়।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+