নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দিলেন মমতা, পঞ্চায়েত-লোকসভায় পাখির চোখ শুভেন্দুর ডেরা
যে নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাংলার রাজপাট তুলে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে, সেই নন্দীগ্রাম বেদখল হয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের।
যে নন্দীগ্রাম আন্দোলন বাংলার রাজপাট তুলে দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে, সেই নন্দীগ্রাম বেদখল হয়েছে সাম্প্রতিক নির্বাচনে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। শুভেন্দুর কাছে হেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নন্দীগ্রাম নিয়ে হাল ছেড়ে দেবেন, তা নয়। তিনি নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারের টার্গেট ফিক্সড করলেন।

নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারের নির্দেশ মমতার
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, তারপর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে। এই দুই নির্বাচনেই নন্দীগ্রাম তৃণমূলের জয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের নেতৃত্বকে নিয়ে খড়গপুরে একটি বৈঠকে বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠক থেকেই তিনি নন্দীগ্রাম পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেন।

কেন হাতছাড়া হল নন্দীগ্রাম, প্রশ্ন মমতার
তিনি এদিন নন্দীগ্রাম হাতছাড়া হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশও করেন। ২০২১-এর বিধানসভায় তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন শেখ সুফিয়ান। তাঁকে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর রোষানলে পড়তে হয়। তিনি বলেন, কেন আমাদের হাতছাড়া হল নন্দীগ্রাম। কোথায় খামতি ছিল, তা খুঁজে বের করে আসন্ন নির্বাচনেই তা পুনরুদ্ধার করতে হবে।

নন্দীগ্রামকে হারাতে পারব না, নন্দীগ্রাম চাই
মমতা এদিন বুঝিয়ে দেন, যে নন্দীগ্রাম আন্দোলন রাজ্যে পরিবর্তন আনতে তৃণমূলকে পথ দেখিয়েছে, সেই নন্দীগ্রামকে হারাতে পারব না। নন্দীগ্রাম আমার চাই। তাই নন্দীগ্রামকে তৃণমূলের হাতে আনতে হবে। উল্লেখ্য, গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যাবধানে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নন্দীগ্রামের ভোট গণনা নিয়ে বিতর্ক সত্ত্বেও
যদিও নন্দীগ্রামের ভোট গণনা নিয়ে বিতর্ক ছিল। প্রথম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হয়। তারপর দীর্ঘক্ষণ পর জানানো হয় শুভেন্দু অধিকারী বিজয়ী হয়েছে। এর মাঝে দীর্ঘক্ষণ লোডশেডিংয়ের জেরে সার্ভার ছিল না বলে জানানো হয়েছিল। তারপরই বদল ভোটের ফলে। তা নিয়ে হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে মামলাটি।

ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করে দেন মমতা
এর মধ্যে দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ রূপরেখা তৈরি করে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। খড়গপুরের এই বৈঠক থেকে তিনি জেলা পরিষদের সভাধিপতি নির্বাচিত করেন তিনি। তারপর তিনি জোর দেন নন্দীগ্রাম নিয়ে। সাফ জানিয়ে দেন, ২০২৪-এ ভালো ফল করতে হবে। ময়দানে থাকতে হবে তোমাদের। আগামী পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে জয় চাই।

ক্ষোভ উগরে দিয়েও নন্দীগ্রাম নিয়ে নির্দেশ
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দেন সুফিয়ানের প্রতি। তিনি বলেন, ভোটের দিন তুমি কী করেছো আমি জানি। এরপর সুফিয়ান বলেন, নন্দীগ্রামে দলের অনেকে বিদ্রোহ করেছেন। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ওসব আমি পরে দেখে নেব। কিন্তু পঞ্চায়েত নির্বাচনে ও লোকসভা নির্বাচনে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। নন্দীগ্রামে সে জন্য গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নন্দীগ্রামের মানুষ একটা ভুল করেছে। বারবার ভুল করবেব না। ওখানে সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications