অনুব্রত, শাহজাহানের পর জেলে যাবে 'আলালের দুলাল'! দাবি শুভেন্দুর, কার অবস্থা হবে জ্যোতিপ্রিয়র চেয়ে খারাপ?
Lok Sabha Election 2024: আগামী দিনে কারা গ্রেফতার হবেন, সেই তালিকা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ নন্দকুমারের জনসভা থেকে। দুর্নীতি ইস্যুতে তিনি তীব্র আক্রমণ করেন তৃণমূল কংগ্রেসকে।
বিভিন্ন সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে শুভেন্দু ও অধিকারী পরিবারকে নিশানা করছেন তার পাল্টা এদিন জবাব দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

শুভেন্দু বলেন, মেদিনীপুরকে গদ্দার বলছেন! মেদিনীপুর না থাকলে দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারতেন না। আমাকে বললে বুঝে নেব। একবার হারিয়েছি, আবার হারাব। তোমার 'আলালের দুলাল'কে জেলে ঢোকাব। অনেকে আমাকে বলেন, কেন আমি আগে সব বলি। আমি যা বলি তা ভেবে বলি, যা বলি সেটাই করি। ভাইপোর কাছে গরু, কয়লার টাকা যায় বলেও উল্লেখ করেন শুভেন্দু।
শুভেন্দু আরও বলেন, ২০২১ সালের পর ১৮ বার গিয়েছি বীরভূমে। কেষ্ট জেলে, বলে বলে গোল করেছি। বসিরহাটে গিয়েছি ৮ বার। আমাকে সভার মাঠ দেয় না। ২০২৩ সালের ৩০ ডিসেম্বর বলেছি, শাহজাহান সাহেব ডেজ আর নাম্বারড। দিন গোনা হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ও বলে, মেদিনীপুরের ছানা এবার সন্দেশখালি আয় তুই। চামড়া ছাড়িয়ে প্যাকেটে পুরে কাঁথি পাঠাব।
এরপই শুভেন্দু বলেন, কিছুদিন আগেই সরবেড়িয়ায় শাহজাহানের বাড়ির কাছে দাঁড়িয়ে ছানা খেয়ে এসেছি। গোটা বংশ জেলে। হাউ হাউ করে কাঁদছে। ইডি ওর বাড়ি নিয়েছে। অকশনে তুললে নিলামে নেব। প্রদীপ মণ্ডল, দেবদাস মণ্ডলদের মেরেছে। তাঁদের পরিবারকে ওই বাড়ি দিয়ে অনাথ আশ্রম খোলাব।
পুলিশের একাংশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যেতে বারণ করছে পুলিশ। রাস্তায় টাকা তুলছে, মদের দোকান থেকে টাকা তুলছে। তৃণমূলের লিড নিয়ে আলোচনা করছে নেতাদের ডেকে। এটা পুলিশের কাজ? আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বেতন পান, নাকি ভাইপোর কয়লা, গরুর টাকা থেকে?
এদিনের মঞ্চ থেকে কাঁথির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উত্তম বারিকের উদ্দেশেও হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। সমবেত জনতার মধ্যে থেকে টাওয়ারের তেল কেলেঙ্কারির কথা জানানো হয় শুভেন্দুকে। তিনি বলেন, টাওয়ারের ১০ হাজার লিটার তেল নিয়ে, ২ হাজার লিটার দিয়ে, ৮ হাজার লিটার ঝাড়ছে। তাতে কোটি কোটি টাকার মালিক। কাঁথির প্রার্থীর অবস্থা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের চেয়েও খারাপ হবে।
শুভেন্দু জানান, তমলুকে নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় ৫ লক্ষ জনসমাগম হবে। তিনি আরও বলেন, নন্দকুমারের উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার কাজ কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাকি কাজও হবে। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে আমরা পঞ্চায়েত দখল করব না। ওরাই পদত্যাগ করবে।
তৃণমূলের ভিত্তি মজবুত করতে অধিকারী পরিবারের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০০১ সালে বলেছিলেন হয় এবার নয় নেভার। কলকাতায় সভা করার জায়গা দিত না। ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বুদ্ধবাবু। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাঁথি শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়ামে তৃণমূলের রাজ্য সম্মেলন হয়। ডাল, ভাত, তরকারির ব্যবস্থা করেন মান্যবর শিশির অধিকারী।
শুভেন্দু আরও জানান, ২০০৩ থেকে ২০১০ অবধি ১৩-১৪ ফেব্রুয়ারি তমলুক রাখাল মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে ছাত্র-যুব সম্মেলন হয়েছিল। রান্না-খাওয়ানোর দায়িত্ব, স্কুলগুলিতে সকলকে রেখে দাঁতের মাজন, সাবান দেওয়ার দায়িত্বে ছিলাম আমি, আপনাদের সেবক শুভেন্দু অধিকারী। তমলুক আসনের সব বুথে এদিন তৃণমূলকে হারানোর ডাক দেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, একদিকে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যিনি গঙ্গাজল। অন্যদিকে, নর্দমা-সম ভাটাংশু (দেবাংশু ভট্টাচার্যকে শুভেন্দু কটাক্ষ করে এই নামেই বিঁধলেন)।












Click it and Unblock the Notifications