মমতার 'কারচুপি' তত্ত্ব খারিজ কাঁথিতে পরাজিত প্রার্থী উত্তমের, তৃণমূলেই তুমুল অস্বস্তি
Lok Sabha Election 2024: লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন কমে ১২টি হলেও কাঁথি ও তমলুক আসনটি হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। অধিকারী-গড়ে ফুটেছে পদ্ম।
পূর্ব মেদিনীপুরের প্রেস্টিজ ফাইটে হারের পর তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এনেছিলেন গণনায় কারচুপির তথ্য। যদিও ভিন্ন সুর কাঁথিতে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীর গলাতেই।

কাঁথিতে শিশির অধিকারীর ছোট ছেলে তথা শুভেন্দুর ভাই সৌমেন্দু সাংসদ হয়েছেন। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৪৭,৭৬৪। তিনি হারিয়েছেন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী উত্তম বারিককে। উত্তম পটাশপুরের বিধায়ক। সারা জেলায় এই একটি বিধানসভা ক্ষেত্রেই লিড পেয়েছে তৃণমূল।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ১৬টি বিধানসভা রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে যার ১৫টিতে এগিয়ে বিজেপি, ১টিতে তৃণমূল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুটি আসনে গণনায় নানাবিধ কারচুপি করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূল প্রার্থীদের।
নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি উঠে যাওয়ার পর উল্লেখযোগ্যভাবে পূর্ব মেদিনীপুরে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, কাঁথির এসডিপিও বদল হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল দেখেই এই পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। যেখানে ফল তৃণমূলের পক্ষে আসেনি, সেখানেই এমন পদক্ষেপ করা হতে পারে।
পটাশপুর বিধানসভা ক্ষেত্রে উত্তম পেয়েছেন ১,০৬,৮২৩ ভোট। সৌমেন্দু পেয়েছেন ৯৮,২১৫ ভোট। তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই জেলায় এতটা খারাপ ফল হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ আঙুল তুলছে অখিল গিরি ও তাঁর পুত্র সুপ্রকাশ গিরির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, পাল্টা অভিযোগ ধেয়ে আসছে উত্তম ও দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষ পণ্ডার দিকে।
উত্তম অবশ্য সাফ জানিয়েছেন, যাঁরা তাঁর বা জেলা সভাপতির দিকে এখন নানা অভিযোগ আনছেন, তাঁরা কেন তা ভোটের আগে করলেন না? কোনও কিছু ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যেত। এই ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি যে আখেরে দলেরই ক্ষতি করছে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন উত্তম।
দলনেত্রী মমতা যেখানে গণনায় কারচুপির অভিযোগ করছেন সেখানে পরাজিত প্রার্থীই তা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকতেই পারে। আমরা এখনও পরাজয়ের কারণ ঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পারিনি। প্রক্রিয়া চলছে। আমি গণনাকেন্দ্রে গিয়েছিলাম ১০ রাউন্ডের পর। তাতে কোনও সমস্যা নেই। গণনা ঠিকঠাকই হয়েছে। এমনকী কাউন্টিং এজেন্টদেরও গণনা নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই।
এখানেই উঠছে প্রশ্ন, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীসের ভিত্তিতে গণনায় কারচুপির মতো অভিযোগ আনলেন। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও বটে। ফলে কোনও বক্তব্য রাখতে গেলে সবকিছু খতিয়ে দেখেই বলা উচিত। উত্তম যেভাবে হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন তাতে তাঁকে নেত্রীর রোষানলে পড়তে হতে পারে, বলছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।












Click it and Unblock the Notifications