স্কুলের পরিকাঠামো নিয়ে আতঙ্ক! গেটে তালা অভিভাবকদের
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না কলাগাছিয়া বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলের চারটি ক্লাসে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১৫৫। পুরনো সাদা রঙের স্কুলটি বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের কাছে আতঙ্কের হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলের দেওয়াল, ছাদ দেখলে আতঙ্কিত হবেন যে কেউ।
স্কুলের দেওয়ালের চারপাশে বিশাল আকৃতির ফাটল, ছাদের ওপর থেকে খুলে পড়ছে চাঙড়। যে কোনও সময় সেই বিশাল আকৃতির দেওয়াল ও চাঙড় ভেঙে বড় কোনও বিপদ ঘটাতে পারে স্কুল চত্বরে। শ্রেণিকক্ষে বসে শিক্ষকের পঠদান, ব্ল্যাকবোর্ডের নোট, কোনও দিকেই মন থাকে না ছাত্র-ছাত্রীদের। কারণ তাদের মন থাকে স্কুলের ছাদ ও দেওয়ালের দিকে। এই বুঝি খুলে পড়ছে ছাদের চাঙড়।

এই আতঙ্ক শুধু স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী বা শিক্ষকদের নয় স্কুলে পাঠানো ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকের মধ্যেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। শিশুদের শিক্ষাদান কেন্দ্রে এ ধরনের বিপদের আতঙ্ক শুধু অভিভাবক নয় ওই এলাকা জুড়ে পড়তে শুরু করেছে।
নিজের পরিবারের শিশুদের শিক্ষাদান কেন্দ্রে বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে এবং দীর্ঘদিনের এই স্কুলের সমস্যার সমাধানে একত্রিত হয়েছেন ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকরা। তাঁদের এই একত্রিত হওয়া, কার্যত বিক্ষোভফের রূপ নেয়। স্কুলের গেটে তালা বন্ধ করে দেন তাঁরা। কোনও কোনও অভিভাবক আবার বলছেন আজকের পর থেকে তাঁরা আর বাচ্চাদের স্কুলেই পাঠাবেন না। স্কুলে তখনই পাঠাবেন যখন এই স্কুল বিপন্মুক্ত হবে।
এখন প্রশ্ন উঠছে স্কুলের পরিকাঠামোর জন্য কি ওই ১৫৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর শিক্ষাদান ব্যাহত হবে? তাহলে সিলেবাসই বা শেষ হবে কী করে? পড়াশোনার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কাও উঠতে শুরু করেছে ওই এলাকা জুড়ে। তবে অভিভাবকরা বলছেন এই সমস্যা আজকের নয়, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই এই সমস্যা চলে আসছে।

যদিও স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি - স্কুল পরিদর্শক, জেলাশাসক ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদেরও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা একত্রিত হয়ে স্কুলের গেটে তালা মেরে দিয়েছেন।
যদিও স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, যত দ্রুত সম্ভব প্রাথমিক শিক্ষা পরিদর্শকের সহায়তায় স্কুলের পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ করে দ্রুত ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার ব্যাবস্থা করা হচ্ছে। অভিভাবকদের এহেন ঝামেলার কথা শুনে দ্রুত ওই স্কুল পরিদর্শনে আসেন SI এবং স্কুল মেরামতের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রশ্ন উঠছে কবে থেকে পঠন-পাঠন শুরু করতে পারবে স্কুল কর্তৃপক্ষ?












Click it and Unblock the Notifications