রণক্ষেত্র কেশপুর, আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী, একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর
রণক্ষেত্র কেশপুর, আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী। মারাত্নক ভাবে জখম বিজেপির প্রার্থী। যদিও ঘটনার পর থেকে খোঁজ নেই বলেও অভিযোগ। একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের গাড়িও।
সকাল থেকেই উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কেশপুর। দফায় দফায় উত্তেজনা তৈরি হয়। কিন্তু বেলা বাড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর। আক্রান্ত হতে হল বিজেপি প্রার্থীকে।
শুধু তাই নয়, একের পর এক সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়ঙ্কর আকার নেয় পরিস্থিতি। ইতিমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। শুরু হয়েছে ব্যাপক ধরপাকড়। গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর
বুথে ঘোরার সময় বিজেপি প্রার্থী প্রীতিশরঞ্জন কোনারের গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ। গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইটবৃষ্টি। পুরো ভেঙে গুড়ীয়ে দেওয়া হয় বিজেপি প্রার্থীর। রড, বাঁশ নিয়ে একসঙ্গে ৫০ থেকে ৬০ জন যুবক হামলা করে বলে অভিযোগ। আর সেই খবর করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হয় সংবাদমাধ্যমের একাধিক কর্মীকে। ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয় একের পর এক গাড়ি। পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ, ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

ঘটনার পর থেকে খোঁজ নেই প্রার্থীর
কোনও রকমে প্রাণ বাচাতে গাড়ি পালানোর চেষ্টা করেন বিজেপি প্রার্থী। মরিয়া হয়ে পালাতে গিয়ে রাস্তার ধারের একটি মাটির বাড়িতে প্রার্থীর গাড়ি ঢুকে যায়। প্রার্থী ও তাঁর সঙ্গে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে পালান। বিজেপি প্রার্থী এখন কোথায় রয়েছেন, তা জানা যায়নি। তাঁর ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তবে এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন।

এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরেই গোটা গ্রামজুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনাস্থলে রাজ্য পুলিশের আধিকারিকরা। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বেশ কয়েক ঘন্টা কেটে গেলেও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বিজেপি প্রার্থীর। যদিও তাঁর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে
দ্বিতীয় দফার ভোট শুরু হতেই পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভোট শুরুর আগে খুন হলেন তৃণমূল কর্মী। পার্টি অফিস থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। মৃত তৃণমূল কর্মীর নাম উত্তম দলুই। মৃতের পরিবারের দাবি, গতকাল রাতে বাড়ির অদূরে পার্টি অফিসেই ছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী। অভিযোগ, ৩০-৩৫ জন বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী জোর করে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে এলোপাথাড়িভাবে কোপানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই তৃণমূল কর্মীকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিত্সকরা। এই নিয়েই উত্তপ্ত ছিল কেশপুর। কিন্তু বেলা বাড়তেই ছবিটা বদলে যায়। বিজেপি প্রার্থীকে এলাকায় দেখতেই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Click it and Unblock the Notifications