তৃণমূল মানেই চোর! মুখ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে DA-এর দাবিতে 'বড়' আন্দোলনের পরামর্শ শুভেন্দুর
সরকারি কর্মীদের ডিএ-র দাবিতে আরও বড় আন্দোলনে নামার পরামর্শ দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত ১২ বছরে বিধানসভায় স্বাস্থ্য বাজেট নিয়ে কোনও আলোচনাই করেননি। এদিন নন্দীগ্রামে এমনটাই বললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়বদ্ঝতা নিয়েও প্রশ্ন করেছেন বিরোধী দলনেতা। নন্দীগ্রামে কৃষক আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির কর্মসূচিতে এদিন যোগ দেন বিরোধী দলনেতা।

তৃণমূল মানেই চোর
এদিন নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা বলেন, তৃণমূল মানেই চোর। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, রাস্তায় তৃণমূলের কেউ গেলেই লোকে বলছে পার্থ যাচ্ছে। সেই সময় সেই ব্যক্তি রেগে যাচ্ছেন। আবার কাউকে কেষ্ট বলায় সে রেগে যাচ্ছেন। কাউকে কুন্তল, কাউকে শান্তনু বললে, তাঁরা রেগে যাচ্ছেন। অন্যদিকে মহিলা নেত্রীদের দেখলেই কেউ যদি বলেন অর্পিতা যাচ্ছে, তাহলে তাঁরা রেগে যাচ্ছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল বিধায়ক ঊষারানি মণ্ডলের মেয়ে বিনতা মণ্ডলের চাকরি গিয়েছে আদালতের নির্দেশে। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিজেপি একটা প্রদর্শনী কবে। যেখানে কারা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, তা তুলে ধরা হবে।

টক শো হোক রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে
রাজ্যে অ্যাডিনো ভাইরাস এবং নিউমোনিয়ায় একের পর এক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। যা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা বলেন, সংবাদ মাধ্যমের উচিত রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাজ নিয়ে টক শো করা। গত ১২ বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভূমিকা কী, প্রশ্ন করেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে বলেন, নন্দীগ্রামে কেন্দ্রীয় সরকারের টাকায় হাসপাতালের জন্য বড় বাড়ি তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু ভিতরে কিছুই নেই। তিনি বলেন, সেখানে ১০ টা রোগী গেলে আটজনকে রেফার করে দেওয়া হয়। তিনি এব্যাপারে একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর ভাইপোকে আক্রমণ করে বলেন ওই বাড়ির লোকেরা সরকারি হাসপাতালে যান না। ভাইপো যে হাসপাতালে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা হয়, সেই হাসপাতালে গিয়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে চিকিৎসা করান।

মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট দিনে বিধানসভায় থাকেন না
এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, প্রতি বৃহস্পতিবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য দফতর নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর থাকে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী একটা বৃহস্পতিবারেও বিধানসভায় উপস্থিত থাকেন না বলে অভিযোগ করেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক। তিনি এই দুটি দফতর নিয়ে কোনও প্রশ্নেরও উত্তর দেন না বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধী দলনেতা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সরকারি কর্মীদের টানা ধর্মঘটে যেতে আহ্বান
সরকারি কর্মীরা ডিএ-র দাবিতে ১০ মার্চ ধর্মঘট করে শক্তি দেখিয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্যপাল ডিএ-র দাবিতে আন্দোলনকারীদের ডেকে অনশন তুলে নিতে অনুরোধ করেছে। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বিরোধী দলনেতা বলেন, জল, বিদ্যুৎ আর স্বাস্থ্য এই তিন সরকারি পরিষেবা বাদ দিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মীরা টানা ধর্মঘটে সামিল হোন। সব জায়গায় তালা লাগিয়ে দিন।












Click it and Unblock the Notifications