শুভেন্দুর গড় নন্দীগ্রামেই গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারি নেতা-কর্মীদের, মহাবিপাকে বিজেপি
নন্দীগ্রামের শক্তি মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রেখেছেন। সেই শুভেন্দু-গড় নন্দীগ্রামেই এবার প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের মুখে পড়ছে বিজেপি।
নন্দীগ্রামের শক্তি মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত হারিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রেখেছেন। সেই শুভেন্দু-গড় নন্দীগ্রামেই এবার প্রকাশ্যে গোষ্ঠীকোন্দলের মুখে পড়ছে বিজেপি। দাবি না মানলে প্রকাশ্যের গণ ইস্তফার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নেতারা। জেলায় জেলায় বিজেপিতে গণইস্তফা চলছে। এবার সেই অসুখ পৌঁছে গেল শুভেন্দু অধিকারীর দরজাতেও।

শুভেন্দুর নিজের গড়েও তৈরি হয়েছে ফাটল
সম্প্রতি অর্জুন সিং বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর অর্জুন-গড় বারাকপুরে বিজেপি ভাঙন আতঙ্কে ভুগতে শুরু করেছে। তাই তড়িঘড়ি সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর মতো দোর্দন্ডপ্রতাপ নেতাদেক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্জুন-গড়ে বিজেপির সংগঠন বাঁচানোর গুরুদায়িত্ব বর্তেছে শুভেন্দুর উপর। কিন্তু তাঁর নিজের গড়েও যে তৈরি হয়েছে ফাটল!

বিজেপির মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সম্প্রতি
শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকা নন্দীগ্রামে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল সামনে চলে এসেছে। বিজেপি নেতাদের একাংশ জেলা নেতৃত্বকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হয় দাবি মানুন, নতুবা তাঁরা গণ ইস্তফা দিতে প্রস্তুত। নন্দীগ্রামে নতুন মণ্ডল সভাপতিকে নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। মণ্ডল সভাপতির অপসারণ চেয়ে জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীদের একাংশ।

বিজেপির বিদ্রোহী নেতাদের হুঁশিয়ারি শুভেন্দু-গড়ে
বিজেপি নেতা-কর্মীরা নতুন মণ্ডল সভাপতির অপসারণ দাবি করেছেন। তা না হলে গণইস্তফা দেবেন তাঁরা। এরপরই বিজেপির জেলা নেতৃত্ব তড়িঘড়ি বৈঠকে বসেন। বিজেপি জেলা নেতৃত্ব দাবি করেন সমস্ত অসন্তোষ মিটে গিয়েছে। কিন্তু বিজেপির বিদ্রোহী নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন কোনও সমস্যারই সমাধান হয়নি। তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত তাঁদের বিদ্রোহ চলবে। দাবি না মাননে তাঁরা ইস্তফা দেবেন।

বিজেপির শক্তঘাঁটিতেই গোষ্ঠী কোন্দল চরমে
বিদ্রোহীদের দাবি, তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে মণ্ডল সভাপতি। ২৫ এপ্রিল নন্দীগ্রাম ১ নম্বর দক্ষিণ মণ্ডলের সভাপতি পদে জয়দেব মণ্ডলকে সরিয়ে দিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মাইতির নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ঘোষণার পর সোনাচূড়া, গোকুলনগর, কালীচরণপুর এলাকার নেতা-কর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ হন।

জলপাইগুড়িতে গণইস্তফা, নন্দীগ্রামে ইস্তফার হুমকি
শুধু নন্দীগ্রামেই যে এই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে তা নয়, কিছুদিন আগে দেখা যায় উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সাংগঠনিক জেলায় বিজেপিতে গণ ইস্তফা শুরু হয়। তারপর এদিন জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে ২০ জন বিজেপি নেতা ইস্তফা দেন। তাঁদের দাবিও এক, জেলা নেতৃত্ব টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোককে মণ্ডল কমিটিতে রেখেছে। আর যাঁরা বিজেপির জন্য প্রাণপাত করল, মিথ্যা মামলায় জেল খাটল, তাঁদের জায়গা হয়নি কমিটিতে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদেই জলপাইগুড়ির ২০ নেতা গণইস্তফা দিয়েছেন। এবার সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শুভেন্দুর গড়ে।












Click it and Unblock the Notifications