বিজেপি ছাড়ার হিড়িক পড়েছে নন্দীগ্রামে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে হঠাৎ রাজনৈতিক পালাবদল
বিজেপি ছাড়ার হিড়িক পড়েছে নন্দীগ্রামে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে হঠাৎ রাজনৈতিক পালাবদল
এই সেই নন্দীগ্রাম, যেখানে আন্দোলন গড়েই রাজ্যে পরিবর্তনের সোপান তৈরি করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তারপর এই নন্দীগ্রামেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে বিতর্কিত জয় তুলে নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার সেই নন্দীগ্রামে বিজেপিতে পদ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে। তবে কি ফের রাজনৈতিক বদল ঘটতে চলেছে নন্দীগ্রামে?

পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের উল্টো সুর নন্দীগ্রামে
নন্দীগ্রামে হঠাৎ তাল কেটে গেল বিজেপির। পঞ্চায়েত ভোটের আগে ফের উল্টো সুর গাইতে চলেছে নন্দীগ্রামের মানুষজন। বিজেপিতে ভাঙন নিয়ে এখন সরগরম একদা তৃণমূলের আন্দোলনভূমি নন্দীগ্রাম। ফের একবার নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পক্ষে রাজনৈতিক বদল আসতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোরও।

অনেকেই পদ ছেড়েছেন, নন্দীগ্রাম বিজেপিতে ভাঙন
ইতিমধ্যে গেরুয়া শিবিরের অনেকেই পদ ছেড়েছেন। পদ ছেড়েছেন বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য ও চণ্ডীপুর মণ্ডল ২-এর ইনচার্জ জয়দেব দাস ও রাজ্য যুব মোর্চার সদস্য বটকৃষ্ণ দাস। শুধু তাঁরাই নয়, এই দুই নেতার ঘনিষ্ঠ অন্য নেতারাও শনিবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁরাও দল ছাড়তে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে সাংবাদিক বৈঠকে।

একের পর এক নেতার দলত্যাগে ব্যাকফুটে বিজেপি
সাংবাদিক বৈঠক করে জয়দেব দাস এ বটকৃষ্ণ দাসের ঘনিষ্ঠরা বলেন, তাঁরা এখনই দল ছাড়ছেন না, তবে দলের প্রতি তাঁরা তিতিবিরক্ত। তাই ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁরা অপেক্ষা করবেন। তারপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এইভাবেই একের পর এক নেতার দলত্যাগ, তারপর একাংশের হুঁশিয়ারিতে ব্যাকফুটে বিজেপি।

দল ছাড়ার ঘোষণায় হইচই পড়ে গিয়েছে নন্দীগ্রামে
সম্প্রতি বিজেপির জেলা সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায় দলবিরোধী কাজের জন্য জেলা কমিটির সদস্য জয়দেব দাসকে শো-কজ লেটার পাঠানো হয়েছে। ১২ অক্টাবর তাঁকে শোকজ চিঠি দেওয়ার পর জয়দেব দাস সাংবাদিক বৈঠক করেন। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। আর তাঁর দল ছাড়ার ঘোষণায় হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে নন্দীগ্রামে।

নন্দীগ্রামে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ অবস্থান হারাচ্ছে
বিজেপি এই বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও হঠাৎ দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক পালাবদল হতে চলেছে নন্দীগ্রামেষ শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের পর থেকে নন্দীগ্রামে বিজেপি অ্যাডভান্টেজ অবস্থানে চলে গিয়েছিল। কিন্তু পঞ্চায়েত ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপিকে ভাঙন রেখা স্পষ্ট হচ্ছে। ফলে বিজেপি পিছিয়ে পড়ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।

নন্দীগ্রামের লড়াই হয়েছিল তৃণমূল বনাম শুভেন্দুর
২০২১-এর বিধানসভা নন্দীগ্রামে বিজেপি বিতর্কিত জয় পেয়েছিল। প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজয়ী হয়েছেন বলে জানা গেলেও পরে শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। তা নিয়ে নানা বিতর্ক দানা বাঁধে। এমনকী বিতর্কের জল আদালত পর্যন্ত গড়ায়। তবে এটা স্পষ্ট যে, তৃণমূল বা বিজেপি যে দলই জিতুক না কেন, লড়াই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি। তৃণমূলের গড় বলে পরিচিত নন্দীগ্রামে বিজেপির বাক্সে এত ভোট পড়বে ভাবতে পারেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড। আসলে নন্দীগ্রামের লড়াই হয়েছিল তৃণমূল বনাম শুভেন্দু অধিকারীর।












Click it and Unblock the Notifications