CPIM Supports BJP: শুভেন্দু-গড়ে অন্য খেলা, তৃণমূলকে রামধাক্কা! সিপিআইএমের সমর্থনে পঞ্চায়েতের দখল নিল বিজেপি
CPIM Supports BJP: পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলে এবার বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে তৃণমূল যত আসন হারিয়েছে তার পুরোটাই রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে লোকসান।
বিগত পঞ্চায়েত ভোটে এই জেলার পঞ্চায়েতগুলি ছিল বিরোধীশূন্য। জেলা পরিষদ তৃণমূল দখলে রাখতে পারলেও এবার অনেক পঞ্চায়েতের দখল নিয়েছে বিজেপি। ত্রিশঙ্কু পঞ্চায়েতগুলিতে বোর্ড গঠনে শুরু হয়েছে অন্য খেলা। পঞ্চায়েত সমিতিতের ক্ষেত্রেও খেলা বাকি বলে দাবি বিজেপির।

আজ ৯ অগাস্ট থেকে ১১ অগাস্ট পর্যন্ত জেলায় জেলায় হবে পঞ্চায়েতের বোর্ড গঠন। মহিষাদল অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন ছিল আজ। তৃণমূলের হাত থেকে এই পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল বিজেপি। তাও আবার সিপিআইএমের সমর্থন নিয়ে। বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে তৃণমূলের সঙ্গে কংগ্রেস ও সিপিআইএম-সহ বাম নেতাদের দেখে কটাক্ষ করছিল বিজেপি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা বারবারই বলে থাকেন, এ রাজ্যে সিপিআইএম, কংগ্রেস, বিজেপি হলো জগাই-মাধাই-বিদাই কিংবা জগাই-মাধাই-গদাই। রাম-বাম জোট রয়েছে বলেও সরব হয় তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারী পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বলছিলেন, নন্দীগ্রামের কয়েকটি পঞ্চায়েত-সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েতে বিজেপি যদি বোর্ড গঠন করতে নাও পারে, তাহলে বোর্ড গড়বে মানুষের জোট।
মানুষের জোটে তৃণমূলকে দূরে রাখতে বিজেপি অন্য কোনও দলের জয়ীদের সমর্থন করবে এমন ইঙ্গিত মিলেছিল। মুর্শিদাবাদে সুতি ২ নম্বর ব্লকের মহেশাইল ১ নম্বর পঞ্চায়েতে ২৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ১০টি, বিজেপি ৭টি, কংগ্রেস ৫টি, আরএসপি ২টি ও নির্দল ১টি আসন। এখানে বিরোধীরা এককাট্টা হয়ে তৃণমূলকে মাঠের বাইরে পাঠিয়েছে।

মহিষাদলের অমৃতবেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল-বিজেপি ছিল ৮-৮। আজ সিপিআইএমের একজন জয়ী প্রার্থীর সমর্থন নিয়ে বোর্ড গড়ল বিজেপি। সিপিআইএমের অপর জয়ী প্রার্থী ভোটদানে বিরত ছিলেন। পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রধান হলেন বিজেপির শুভ্রা পণ্ডা। দলের উপরতলার অনুমতি নিয়ে এভাবে বোর্ড দখল করা হলো কিনা, সে প্রশ্ন করতেই রে-রে করে ওঠেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।
শুভ্রা-সহ বিজেপি নেতাদের কথায়, চোরমুক্ত পঞ্চায়েত গড়াই আমাদের লক্ষ্য ছিল। তৃণমূলের যাঁরা পঞ্চায়েত চালাতেন তাঁরা সিপিআইএম, বিজেপি পরিবারগুলিকে সরকারি পরিষেবা প্রদান থেকে বঞ্চিত রেখেছিলেন। পঞ্চায়েতের নতুন বোর্ড সকলের মতামতকে গুরুত্ব দিতে কমিটি গড়ে চালানো হবে। মানুষকে দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত উপহার দিতে চাই।
প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সৌমেন মহাপাত্রর কথায়, জাতীয় রাজনীতিতে সিপিআইএম, কংগ্রেসের নেতারা সাম্প্রদায়িক শক্তিকে হারানোর ডাক দিচ্ছেন। সিপিআইএম বলেছিল, তারা বিজেপিকে সমর্থন করবে না। ভোটদানে বিরত থাকবে। কিন্তু নীচের তলার কর্মীদের উপর উপরতলার নেতৃত্বের কোনও রাশ নেই। আমরা বারবার বলেছি, রাম-বাম জোটের কথা। তা ফের প্রমাণিত। তবে ইন্ডিয়া জোটে এর প্রভাব পড়বে না।












Click it and Unblock the Notifications