বিজেপিতে ইস্তফার হিড়িক শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে! পঞ্চায়েতের আগে বিপাকে গেরুয়া শিবির
নন্দীগ্রাম আন্দোলনে ভর করে বাংলায় পরিবর্তন এসেছিল তৃণমূলের হাত ধরে। সেই নন্দীগ্রাম আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে তাঁরা এখন ভিন্ন মেরুতে। উভয়ে উভয়ের সবথেকে বড়ো প্রতিদ্বন্দ্বী। তাই একুশের মতো আসন্ন পঞ্চায়েতেও এবার প্রেস্টিজ ফাইট হবে নন্দীগ্রামে।
পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে যখন বিজেপি ও তৃণমূল উভয় শিবিরই ঘর গুছিয়ে নিতে চাইছে, তখনই ফের অস্বস্তি বাড়ল গেরুয়া শিবির। গেরুয়া শিবিরে অস্বস্তি বাড়ল খোদ শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামে বিজেপিতে ইস্তফার হিড়িক পড়ে যাওয়ায়। দলীয় পদ থেকে ইস্তফার জেরে মণ্ডল কমিটিই ভেঙে গেল বিজেপির।

নন্দীগ্রামে বিজেপির মণ্ডল সভাপতি, মণ্ডল সহসভাপতি-সহ মণ্ডল কমিটির সকলেই দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। বিজেপিতে এই ইস্তফার হিড়িকের কারণে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নন্দীগ্রাম মণ্ডল ৪-এর সভাপতি তথা নন্দীগ্রাম দু-নম্বর ব্লকের দাপুটে নেতা চন্দ্রকান্ত মণ্ডলের নেতৃত্বে পুরো কমিটিই বিজেপির দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেয়।
মণ্ডল কমিটি থেকে বিজেপি নেতারা সরে দাঁড়ানোর আগে তাঁদের ইস্তফা পত্রে উল্লেখ করেছে কী কারণে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ইস্তফাপত্রে তাঁরা লেখেন, দলের সাংগঠনিক পদ্ধতি না মেনে মণ্ডলে বিভাজনের কারণে তাঁরা এই ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইতিমধ্যেই তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁরা তাঁদের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।

পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক্কালে বিজেপিতে এই ইস্তফার ফলে দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল যে আরও তীব্র আকার নিল নন্দীগ্রামে, তা বলাই বাহুল্য। এখন এই পরিস্থিতি কীভাবে কাটিয়ে উঠতে পারে বিজেপি সেটাই দেখার। নন্দীগ্রামে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিতর্কিত জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার প্রেস্টিজ ফাইটে প্রমাণ করার পালা সেই জয় ফ্লুকে আসেনি।
তৃণমূলও এবার নন্দীগ্রামের ভোটকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হার মানতে হয়েছিল। সেই হারের জবাব দিতে পঞ্চায়েত ভোটকে বেছে নিয়েছে তারা। সেইমতো রণনীতি তৈরি করে এগোচ্ছে তৃণমূল। নন্দীগ্রামের জন্য পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েচে রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষকে।

নন্দীগ্রামে যে পঞ্চায়েত ভোটেও কাঁটে কা টক্কর হবে তৃণমূল ও বিজেপির তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তার আগে বিজেপিতে এই ভাঙন তাই চিন্তা বাড়িয়েছে গেরুয়া শিবিরের। বিজেপি চাইছে দলীয় এই কোন্দল মিটিয়ে নিতে। তা না হলে ফায়দা লুটবে তৃণমূল। তৃণমূলকে কোনোরকম রাজনৈতিক সুবিধা করে দিলেন পস্তাতে হবে বিজেপিকেই।












Click it and Unblock the Notifications