'ওর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ কানে এসেছিল', খেজুরিতে বিস্ফোরক মমতা
‘বাংলায় এসে বড়বড় কথা বলছেন মোদি। ৭ বছর সরকারে থেকে কী করেছেন? নিজের নামে স্টেডিয়াম করেছেন। এরপর হয়ত দেশটাও নিজের নামে করে নেবেন।‘ আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
২৭ তারিখ প্রথম দফার নির্বাচন। এরপর ১ লা এপ্রিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে ভোট। লাগাতার চলছে প্রচার। কার্যত ভাঙা পা এবং হুইল চেয়ারে বসেই একের পর এক সভা করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ শনিবার কার্যত অধিকারী গড়ে একের পর এক সভা করলেন তিনি। অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়েই একের পর এক সভা করে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। পালটা দিলেন শুভেন্দুও।

কানে কানে কথা হতো ওদের।
শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়েই একের পর এক শুভেন্দুকে আক্রমণ শানান মমতা। একের পর এক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে খেজুরির সভা থেকেও আরও একবার শুভেন্দুকে বিশ্বাসঘাতক, গদ্দার বলে আক্রমণ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর নাম উহ্য রেখে তাঁর তোপ, "২০১৪ থেকে চোখে চোখে, কানে কানে কথা হতো ওদের। কত বড় গদ্দার!"

কেন খেজুরিতে প্রার্থী বদল!
খেজুরি সভা থেকে মমতা বলেন, টিকিট সবাই পায় না। কিন্তু টিকিট না পেয়েও যাঁরা দলের কাজে নিবেদিতপ্রাণ, তাঁরাই আসল সম্পদ। পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে নির্বাচনী জনসভায় দলীয় কর্মীদের প্রতি এভাবেই কার্যত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি খেজুরির বর্তমান বিধায়ক, দলবদলকারী রণজিৎ মণ্ডলের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নাম না করে বলেন, "খেজুরির যে বিধায়ক, আমাদের দলের, ওর বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ কানে এসেছিল। তারপর ও গদ্দারি করে। তাই এবার ওকে টিকিট দিইনি। পার্থপ্রতিম দাসকে টিকিট দিয়েছি। আপনারা ওকে জেতান, খেজুরিতে যে কাজ বাকি আছে, ও করে দেবে। আমি বলে যাচ্ছি।"

আমার মেরুদন্ড আছে
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে নাম না করে তীব্র আক্রমণ করেছেন। গদ্দার, বিশ্বাসঘাতক বলে তীব্র আক্রমণ করেন। পালটা জবাব দেন শুভেন্দুও। মেদিনীপুরের এক সভা থেকে পালটা তোপ দাগেন তিনি। বলেন, আমার মেরুদন্ড সোজা রয়েছে। আর তা রয়েছে বলেই যা দিয়েছিলেন সমস্ত কিছু ফিরিয়ে দিয়ে এসেছি তৃণমূল কংগ্রেসকে। সেগুলি আপনি আপনার তোলাবাজ ভাইপোকে দিয়ে দেবেন, পালটা তৃণমূল নেত্রীকে তোপ শুভেন্দু অধিকারীর।

দেশের নামও বদল করে দেবে!
খেজুরির সভা থেকে মমতা বলেন, নোটবাতিল করেছে, ব্যাঙ্কগুলো বিক্রি করে দিচ্ছে, রেল বিক্রি করে দিচ্ছে, জীবনবিমা, এয়ার ইন্ডিয়া, কোল ইন্ডিয়া বিক্রি করে দিচ্ছে। আর নিজের নামে স্টেডিয়াম বানাচ্ছে। কোন দিন তো দেশের নামও বদল করে দেবে, আতঙ্কিত তৃণমূল নেত্রী। মমতা বলেন, বাংলায় এলে এরা হলদিয়াকেও বেঁচে দিতে পারে। সুতরাং এদেরকে একটা ভোটও না দেওয়ার জন্যে আবেদন রাখেন মমতা।

১ এপ্রিল বিজেপিকে এপ্রিল ফুল করে দিন!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,'১ এপ্রিল বিজেপিকে এপ্রিল ফুল করে দিন। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সভায় ভিড় হচ্ছে না। বাংলার মানুষ বিজেপির ভাঁওতা আর বিশ্বাস করছে না। তবে নেত্রীর আশঙ্কা, ভোটের আগে ট্রেনে করে প্রচুর বহিরাগত ঢোকানোর চেষ্টা করবে ওরা। সুতরাং সমস্ত মা-বোনদের সতর্ক থাকার বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে, ভোট লুঠ হতে পারে বলেও আশঙ্কা মমতার। আর তাই মানুষদের পাহাড়া দেওয়ার কথা বলেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications