কোনও কারণে তৃণমূল ছাড়লেন শুভেন্দু? গোপন তথ্য 'ফাঁস' অভিষেকের
গত কয়েকমাস ধরে টানটান উত্তেজনা! একদিকে শুভেন্দুকে ধরে রাখার চেষ্টা, বৈঠক অন্যদিকে বিজেপির তরফে প্রস্তাব। যদিও শেষমেশ গত কয়েকমাস আগে অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগদানের পর থেকে একদিকে অভিষেক অন্যদিকে শুভেন্দুর বাকযুদ্ধ লেগেই আছে। তবে আজ শনিবারের অভিষেকের সভা ছিল রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে পাঁচ বছর পর মেদিনীপুরের পা রাখেলন তিনি। অন্যদিকে দলবদলের পর একেবারে শুভেন্দুর খাসতালুকে দাঁড়িয়ে সভা করলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। শুধু সভা করলেন না, রীতিমত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন শুভেন্দুকে। বললেন, বাড়ি থেকে কয়েক মিনিট দূরে দাঁড়িয়ে আছি...সাহস থাকলে কিছু করে দেখা। একই সঙ্গে অধিকারী গড়ে দাঁড়িয়েই নাম না করে শুভেন্দুর দুর্নীতি ফাঁস করার হুঁশিয়ারি। তবে এদিন কেন তৃণমূল ছাড়লেন শুভেন্দু সেই সংক্রান্ত 'গোপন' তথ্য ফাঁস করলেন অভিষেক।

শুভেন্দুর রাগের কারণ অবসার্ভার পদ তুলে দেওয়া
মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে এদিন সভার প্রথম থেকেই আক্রমণাত্বক ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক ইস্যুতে শুভেন্দুকে নাম না করে আক্রমণ করতে থাকেন অভিষেক। আর তা করতে গিয়ে অভিষেক বলেন, জানেন কেন তৃণমূলের ছাড়লেন উনি? কেন এত রাগ? কোনওদিন বলিনি। আজ মেদিনীপুরের মাটি থেকে দাঁড়িয়ে বলব। ডায়মন্ডহারবারের এই সাংসদ বলেন, অবসার্ভার পদ তুলে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলে। আর সেই কারনেই নাকি রাগ শুভেন্দুর। প্রকাশ্য সভা থেকে তৃণমূলের সঙ্গে শুভেন্দুর দূরত্বের কারণ হিসাবে এমনটাই দাবি করেন অভিষেক। তবে না থেমে আরও বলেন যে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, পুরুলিয়ার অবসার্ভার ছিলেন উনি। কেন থাকবেন? বাইরে থেকে গিয়ে একটা লোক সেখানে কেন মাতব্বরি করবে? কেন জেলার লোক দলটাকে আগলে রাখবে না? আর তা রাখবে বলেই তৃণমূল একটা পদ তুলে দেয় বলে দাবি অভিষেকের। আর তাতেই নাকি সমস্যা শুভেন্দুর। দাবি তৃণমূল নেতার।

'২০১৪ থেকে অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ, সেই জন্য ভরসা করিনি'
অভিষেক এদিন বলেন, উনি( শুভেন্দু) তো নিজেই বলেছেন ২০১৪ সাল থেকে অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ। এতগুলি জায়গার অবসার্ভার থাকা মানে অন্তত ৫০টিরও বেশিয়া আসন তাঁর হাতে থাকা। আর সেগুলি গোপনে বিজেপির হাতে তুলে দিতে সুবিধা হত? শুভেন্দুকে খোলা চ্যালেঞ্জ অভিষেকের। আর সেই তথ্য হাতে আসার পরেই যে আর তাঁকে তৃণমূল ভরসা করেনি তা কার্যত এদিন সাফ জানান নেত্রী ভাইপো। তবে তাঁর দলবদলে মেদিনীপুরে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না বলেই মন্তব্য করেন অভিষেক। এখানকার মানুষ তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গেই আছে। আর নন্দীগ্রাম থেকেই এবার বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রী পাবে বলে আত্মবিশ্বাসী অভিষেক।

দুর্নীতি ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি
তোলাবাজ ভাইপো বলে আক্রমণ করছে। নাম নিতে ভয় পায়। তবে মেদিনীপুরের পবিত্র মাটিতে কি করেছ তা ফাঁস করে দেব। আর তা ঠিক সময়ে করা হবে বলে হুঁশিয়ারি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হলদিয়াতে কাকে কত টাকা দিয়ে কন্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছে, কার কার কাছ থেকে টাকা নিয়ে সুবিধা করে দেওয়া হয়েছে সব আগামিদিনে ফাঁস করার চালেঞ্জ মেদিনীপুরে দাঁড়িয়ে এদিন দেন সাংসদ।

কলকাতার ব্যাঙ্ক ছাড়া কোথাও অ্যাকাউন্ট নেই আমার বউয়ের
এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছিলেন শুভেন্দু। গরু পাচারের টাকা ম্যাডাম নারুলার অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে বলে বেশ কিছু প্রমাণও সামনে এনেছিলেন শুভেন্দু। আর সেই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন অভিষেক। বলেন, আমার বউয়ের কলকাতা ছাড়া আরও কোনও জায়গায় অ্যাকাউণ্ট নেই। আর তা আছে প্রমাণ করুন। এখন আমার সঙ্গে না লড়ে আমার বৌকে টার্গেট করেছে, বলে মন্তব্য করেন অভিষেক। বলছে, আমার বৌ ২ বছর আগে এয়ারপোর্টে সোনা নিয়ে ধরা পড়েছিল। তোর সিআইএসএফ কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল? আমার তোলাবাজির প্রমাণ দিতে পারলে ফাঁসির মঞ্চে মৃত্যুবরণ করব বলেও মন্তব্য করেন অভিষেক।












Click it and Unblock the Notifications