মমতা ইস্তফা দেবেনই না, 'রাজ্যপাল চাইলে আমাকে বরখাস্ত করুন', ফের সুর চড়া তৃণমূলনেত্রীর
মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। এদিন বুধবার কালীঘাটে দলের জয়ী বিধায়কদের সঙ্গে এক বৈঠকেও তৃণমূলনেত্রী পুনর্ব্যক্ত করলেন যে, তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছাড়ছেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রাজ্যপাল চাইলে তাঁকেই বরখাস্ত করতে পারেন। এই পদক্ষেপকে তিনি প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখছেন।
বুধবার দুপুরে কালীঘাটে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুব্রত বক্সী। তৃণমূলের নির্বাচিত ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৯ জন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেন। সেখানেই তৃণমূল নেত্রী তাঁর অনড় অবস্থান ফের স্পষ্ট করে দেন।

উপস্থিত বিধায়কদের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক৷ আমি চাই, সেই দিনটি হোক একটি কালো দিন।" এই মন্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন তিনি তাঁর দৃঢ়তা প্রকাশ করেন, তেমনই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ইঙ্গিত দেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই পদত্যাগ না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আসলে জনাদেশের বিরুদ্ধে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "এই নির্বাচনে জোর করে আমাদের জনাদেশ ছিনিয়ে নিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদের এটিই হল নিজস্ব ধরন।"
প্রসঙ্গত, গতকালই এক সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলনেত্রী ঘোষণা করেছিলেন, তিনি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন না। তাঁর অভিযোগ, প্রায় একশো আসনে জোর করে ভোট লুঠের মাধ্যমে তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের নৈতিক জয় হয়েছে এবং সেই কারণেই তিনি পদত্যাগে নারাজ।












Click it and Unblock the Notifications