শোকজেও আস্থা মমতায় ! মুকুলপন্থী সাংসদ সরাসরি জবাব চাইবেন পার্থর কাছে
শোকজের চিঠি পাওয়ার পর তৃণমূল সাংসদ অনুপম হাজরা প্রকারান্তরে শোকজের জবাব দিয়েই দিলেন। এবার আর শুধু ফেসবুক-বার্তায় নয়, তিনি সরাসরি বলে দিলেন কোনও দলবিরোধী কাজ করেননি।
ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করে দলের রোষানলে তিনি। তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারির পর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে শোকজ চিঠি পাঠিয়েছেন। আর সেই চিঠি পাওয়ার পর তৃণমূল সাংসদ প্রকারান্তরে শোকজের জবাব দিয়েই দিলেন। এবার আর শুধু ফেসবুক-বার্তায় নয়, অনুপম সরাসরি বলে দিলেন তিনি কোনও দলবিরোধী কাজ করেননি। চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, পার্থদার কাছে আমি জানতে চাইব কেন শোকজ করা হল আমাকে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে যখন জোর জল্পনা তৃণমূল কংগ্রেসে অনুপমের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে রাখঢাক না করেই দলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছেন স্বয়ং সাংসদ। একদিন আগেই তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। আবার সেই কথারই প্রতিধ্বনি করলেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে।
অনুপম স্পষ্ট জানালেন, 'দিদিমণির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছিলাম। তিনি আমাকে মানুষের জন্য কাজ করার প্লাটফর্ম দিয়েছিলেন লোকসভার সাংসদ করে। যেদিন সাংসদ হয়ে শপথ নিয়েছিলাম, সেদিনই আরও একটা শপথ গ্রহণ করি, দিদির সততা আর মূল্যবোধের আদর্শকে অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলব। আজও সেই পথ থেকে বিচ্যুত হইনি।'
তিনি বলেন, 'আজ আমার সাংসদ জীবনের একটা কালো দিন যে, ঐতিহাসিক একটা ঘটনাপ্রবহ নিয়ে নিজের মত ব্যক্ত করে দলে শোকজের মুখে পড়তে হল। আমি তো কারও গরিমা খর্ব করিনি। গান্ধীজির তুলনায় নেতাজিকে এগিয়ে রেখেছি আমার ফেবারিটদের তালিকায়। সেটা কী করে দল বিরোধী কাজ হয়। এই কথাই আমি জানতে চাইব পার্থদার কাছে।'
অনুপম বলেন, 'যাঁর মুখ চেয়ে এই দলে আসা, তাঁকে অসম্মান করতে পারি না। তাঁকে অসম্মান করিনি। এমন কোনও কাজ করব না, যাতে তাঁর সম্মানহানি হয়, দলের সম্মানহানি হয়। অথচ সেই আমাকেই শোকজ করা হল দলবিরোধী মন্তব্য করার জন্য। ভারতী ঘোষ নিয়েও যে ফেসবুক পোস্ট করেছিলাম, তা দলবিরোধী নয়। আমি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষমতার অলিন্দে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহের অপব্যবহার করেন যাঁরা, তাঁদের প্রতি একটা বার্তা দিতে চেয়েছি। এতে তো দলেরই ভাবমূর্তি বাড়বে।'
প্রসঙ্গত, সাংসদ অনুপম হাজরা মন্তব্য করেন, 'গান্ধীজি ও নেতাজি নিয়ে আমার মতামত পোষণ যদি দলবিরোধী হয়, তাহলে এমন অনেকের মন্তব্যই দলবিরোধী বলে গণ্য হওয়া উচিত। এমনকী সাংসদ সুগত বসুর নেতাজি নিয়ে মন্তব্যও এর বাইরে নয়।' তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের এক জনসভায় বলেছিলেন আমি বিশ্বাস করি- নেতাজি এখনও বেঁচে আছেন। পরে দলেরই সাংসদ সুগত বসু মন্তব্য করেন, নেতাজির মৃত্যু হয়েছে। তাহলে এই মন্তব্যও তো দলবিরোধী।'












Click it and Unblock the Notifications