মুকুল রায়কে নিয়ে মিলে গেল বিজেপি আর তৃণমূলের দাবি! অপেক্ষায় রয়েছেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়
মুকুল রায়। একটা সময়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। আর বিজেপিতে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি। সেই মুকুল রায়কে নিয়ে বিজেপির পরে তৃণমূলের দাবি মিলে গেল। অন্যদিকে বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এব্যাপারে অপেক্ষা করার পক্ষে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরের মাসেই কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক তৃণমূল ভবনে গিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে একাধিকবার অধ্যক্ষের কাছে লিখিত দাবি করেছেন।

বিধানসভায় অধ্যক্ষ তো সেই দাবি মানেনইনি, তার ওপরে মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যানও করেন তিনি। সেইসব অবশ্য এখন অতীত। মুকুল রায় তৃণমূলে কাজ করতে পারছেন না। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার আশা নিয়ে তিনি এখন দিল্লিতে। কিন্তু চারদিন পরেও কোনও গুরুত্বপূর্ণ বিজেপি নেতার দেখা পাননি তিনি।
তবে মুকুল রায় দিল্লিতে গিয়ে দাবি করেছেন, তিনি পুরোপুরি সুস্থ। তাঁর পরিবারই তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বানাতে চায়। বাড়ির লোক বিশেষ করে ছেলে শুভ্রাংশু রায়ই তাঁকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছেন, বলেছেন মুকুল রায়।
প্রসঙ্গত মুকুল রায় দিল্লি যাওয়ার পরে ছেলে শুভ্রাংশু রায় কখনও নিখোঁদ আবার কখনও অপহরণের মামলা দায়ের করেছিলেন। দাবি করেছিলেন বাবা মানসিক ভাবে সুস্থ নন। উনি ভাল করে হাঁটতে পারেন না। অস্ত্রোপচারের আগে তাঁকে ডায়াপার পরিয়ে রাখতে হত বলেও দাবি করেছেন শুভ্রাংশু।
মুকুল রায়ের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা চিকিৎসক সাংসদ শান্তনু সেন বলেছেন, মুকুল রায়ের যে অবস্থা তাতে তিনি বিধায়ক থাকতে পারেন না। তিনি দাবি করেছেন মুকুল রায়ের ডিমনেশিয়া হয়েছে। তাঁর পারকিনসনস হয়েছে। একদিকে তিনি যেমন সব ভুলে যান, অন্যদিকে তাঁর হাত-পা কাঁপে।

মুকুল রায়ের হাসপাতালের ডিসচার্জ রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে শান্তনু সেন প্রশ্ন করেছেন, একজন প্রমাণিত অসুস্থ ব্যক্তির কথা কি কোনও গুরুত্ব থাকে? তিনি বলেছেন, নিয়মেই রয়েছে জনপ্রতিনিধি যদি মানসিকভাবে অসুস্থ হন এবং কাজ করতে পারছেন না এমন হয়, তাহলে বিধায়ক পদ খারিজ হওয়ার কথা।
শান্তনু সেনের সঙ্গে প্রায় একমত বিজেপির আইনজীবী নেতা তরুণজ্যোতি তিওয়ারির। তিনি বলেছেন, মুকুল রায়ের অসুস্থতার জন্য কৃষ্ণনগর উত্তরের মানুষ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মুকুল রায়ের মানসিক অবস্থা বোঝাতে তিনি ২০২৩-এ সিপিএমকে সরানোর কথা বলার উল্লেখ করেছেন।
তবে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে বিজেপির দাবি নিয়ে আগে ব্যবস্থা গ্রগণ না করলেও এবার বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি এখন অপেক্ষায় রয়েছেন। মুকুল রায়ের মানসিক সুস্থতা নিয়ে অভিযোগ করে কোনও অভিযোগ পেলে বিষয়টি তিনি মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে পাঠাবেন। রিপোর্ট পেলে সেই অনুযায়ী মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications