তৃণমূল ভরসা রাখল তিন বিজেপি বিধায়কের ওপরে! ঘাসফুলের বড় চমক ব্যারাকপুরে
কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারে বারে করা আবেদন সাড়া না দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিয়াল্লিশ জনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন ব্রিগেডের জনগর্জন সভা থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নবীন প্রবীণের মিশেল রাখা হয়েছে এই প্রার্থী তালিকায়।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় ব্যারাকপুরে যেমন চমক রয়েছে, ঠিক তেমনই তিন বিজেপি বিধায়কের ওপরে ভরসা রেখেছে ঘাসফুল শিবির। এঁদের একজন উত্তরবঙ্গের এবং দুইজন দক্ষিণবঙ্গের।

২০১৯-এ ব্যারাকপুর থেকে বিজেপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিল অর্জুন সিং। কিন্তু তিনি তিন বছর দুইমাস পরে পুরনো দল তৃণমূলে ফেরত যান ২০২২-এর মে মাসে। অর্জুন সিংকে দলে নেওয়ার আগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে বীজপুরের বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম ও অপর বিধায়ক সুবোধ অধিকারীর সঙ্গে বারে বারে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। তৃণমূলের একাংশ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অর্জুন সিংকে টিকিট না দেওয়ার আবেদন করেছিল। শেষ পর্যন্ত ব্যারাকপুর থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছে নৈহাটির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিককে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ থেকে তৃণমূলের তরফে টিকিট দেওয়া হয়েছে রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণীকে। এই কৃষ্ণ কল্যাণী পেশায় শিল্পপতি। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপির টিকিটে জয়ী হন। এরপর ২০২১-এর অক্টোবরে তৃণমূলে যোগদান করেন। তারপর থেকে বিজেপির তরফে বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে কৃষ্ণ কল্যাণীর সদস্য পদ খারিজের দাবি করা হয়। তার পরেও কৃষ্ণ কল্যাণীকে পিএসির চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন বিধানসভার অধ্যক্ষ।
রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট দেওয়া হয়েছে মুকুটমনি অধিকারীকে। সাত মার্চ তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। আদতে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী দে রায়কে ষোলো হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছিলেন।
তৃণমূল এবার বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র থেকে টিকিট দিয়েছে বিশ্বজিৎ দাসকে। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। কৃষ্ণ কল্যাণীর মতো তিনিও ২০২১-এ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলের ফিরে গিয়েছিলেন। তবে বারে বারে বিধানসভার অধ্যক্ষের সদস্য পদ খারিজের বিজেপির দাবির পরেও তা করা হয়নি কিংবা বিধায়কও বিধায়ক পদে ইস্তফা দেননি।












Click it and Unblock the Notifications