শহরে ফের 'রাত দখল', SSC ভবন ঘিরে মানবশৃঙ্খল শিক্ষিকাদের; জল-টয়লেটের ব্যবস্থা সজলের, লাঠি হাতে নামল RAF
SSC Scam: রাত গভীর হতেই আরও বাড়ল আন্দোলনের ঝাঁঝ। পুলিশের সঙ্গে নতুন করে বচসা ধাক্কাধাক্কি হয় চাকরিহারা শিক্ষকদের। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চোর চোর স্লোগান তোলেন শিক্ষকরা। বিধাননগর পুলিশের ডিসি অনীশ সরকারকে ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাত ২টো বেজে গেলেও এসএসসি ভবনের ভেতরেই আটকে থাকেন চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার। এদিকে, চাকরিহারাদের জন্য জলের ব্যবস্থা করে দিলেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ।
যোগ্যদের তালিকা না বেরোনো পর্যন্ত এসএসসি ভবন থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন বিক্ষোভরত চাকরিহারা শিক্ষকরা। এরই মাঝে রাত দেড়টা নাগাদ এসএসসি ভবন থেকে এক পুলিশ কর্মী বের হচ্ছিলেন। সিভিল ড্রেসেই ছিলেন তিনি। সেসময় তাকে এসএসসি ভবনের কর্মী ভেবে আটকানোর চেষ্টা করেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। প্রবল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। আচার্য সদনের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। ডিসিকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। চাকরিহারাদের চাপে পিছু হঠে পুলিশ।

এদিকে করুণাময়ীতে কাঁদানে গ্যাস, লাঠি হাতে নিয়ে নামে পুলিশের ব়্যাফ। খণ্ডযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। মাটি আঁকড়ে শুয়ে বসে প্রতিবাদে অনড় শিক্ষকরা। তাদের দাবি, "ওরাই রাস্তায় নামিয়েছে। তালিকা না দিলে আমরা সরব না।" চাকরিহারা শিক্ষিকাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে পুলিশ। পুলিশ গুঁতো মারছে বলে অভিযোগ করেন এক শিক্ষিকা। পাল্টা পুলিশ আধিকারিক বলেন, "যা আন্দোলন করার করুন। আমাদের মহিলা পুলিশ আছে। আমরা আছি।"
বিনিদ্র রাত ধরনা প্রতিবাদ চাকরিহারাদের। এদিকে রাতেই প্রতিবাদীদের জন্য জলের ব্যবস্থা করেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ। কোনও রাজনৈতিক কারণে নয়, সম্পূর্ণ মানবিক দিক থেকে এই আয়োজন বলে জানান তিনি। বায়ো টয়লেট বসাতে পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ করেন চাকরিহারারা। যদিও সজলের আশ্বাস, বায়ো টয়লেটও আনা হচ্ছে।
সজল ঘোষ বলেন, "জল দেওয়ার সঙ্গে যাতে রাজনীতি না জড়ায়। বায়ো টয়লেট আসবে কিন্তু তা যেন মহিলারা ব্যবহার করেন সেই অনুরোধ থাকবে। আমি রাজনীতি করি। কিন্তু তার মানে এই নয় আমি বাংলার মানুষ না। এসএসসি কর্তারা অর্ডার করা খাবার খাক, কিন্তু চাকরি খেলেন কেন? বায়ো টয়লেট আসতে ২ ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে সেটা মহিলারা যেন ব্যবহার করেন। বাকিরা এসএসসি ভবনকেই টয়লেট বানিয়ে দিক। কোনও কাজে লাগেনি এসএসসি ভবন।"
এদিকে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ান আরজি করের চিকিৎসকরাও। জুনিয়র চিকিৎসকদের সংগঠনের তরফে খাবারের ব্যবস্থাও করা হয় চাকরিহারা শিক্ষকদের জন্য। গভীর রাতে SSC ভবন ঘিরলেন চাকরিহারারা। শিক্ষিকারা মানবশৃঙ্খল তৈরি করলেন সেখানে। এদিকে মঙ্গলবার এসএসসি ভবনের সামনে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন চাকরিহারা বিক্ষোভকারীরা। তাদের নিয়ে রাজ্য সরকার ও পর্ষদ বিরাট ষড়যন্ত্র করছে বলে দাবি করেছেন চাকরিহারারা।












Click it and Unblock the Notifications