SSC Scam: বাইরে বিনিদ্র রাত ধর্না চাকরিহারাদের, 'বহিরাগত যোগ' দেখছেন ভিতরে 'বন্দি' চেয়ারম্যান
SSC Scam: বিনিদ্র রাত কাটিয়ে ভোর। এসএসসি ভবনের সামনে ঠায় বসে চাকরিহারা শিক্ষকরা। ধর্না, হাততালিতে প্রতিবাদে মুখর হল রাজপথ। ওদিকে রাতভর আচার্য সদনের ভেতরেই আটকে রইলেন চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার-সহ পর্ষদের বাকি আধিকারিকরা। চাকরিহারাদের তরফে রাতে খাবার আটকানোর পর সকালে চা-ও নিয়ে যেতে দেওয়া হল না এসএসসি ভবনে। আন্দোলনে বহিরাগত যোগের অভিযোগ তুললেন চেয়ারম্যান।
যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা ও ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ প্রকাশের দাবিতে অনড় চাকরিহারা শিক্ষকরা। সোমবার সন্ধেয় সেই তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও তা করেনি এসএসসি। বরং দাবি, প্রতিনিধিদের বলা হয়েছে থার্ড কাউন্সেলিং পর্যন্ত সবাই বৈধ। তারপর সবাই অযোগ্য। এই বার্তা আসতেই বাইরে বিক্ষোভ জোরালো করেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়।

তালিকা না প্রকাশ করলে এসএসসি ভবন থেকে কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষকরা। সেই মতো এসএসসি ভবনের সবকটি গেট আটকে ঘেরাও করে চলে বিক্ষোভ। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাতে এসএসসি ভবনের ভিতরে অর্ডার করা খাবার ঢুকতে দেননি শিক্ষকরা। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ এক ব্যক্তি চায়ের ফ্লাস্ক ও মাটির ভাঁড় নিয়ে এসএসসি ভবনের দিকে এগোলে তাঁকেও বাধা দেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
রাত জেগে রাস্তায় বসে তারা। মঙ্গলে মহাসমাবেশ ডেকেছেন তারা। শিক্ষকদের দাবি, "আমাদের দিকে কেউ ফিরে তাকাচ্ছেন না, আর ওনারা এসি ঘরে আরামা ঘুমিয়ে চা খাবেন, এটা হতে পারে না।" সকালেও 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস', 'হোক কলরব'-এর মতো স্লোগান শোনা যায় বিক্ষোভকারীদের মুখ থেকে। সকাল হলেও কোনও আশ্বাস শোনা গেল না এসএসসির তরফে। অন্যদিকে, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসেও রাত পেরিয়ে সকালেও অনশন শিক্ষাকর্মীদের।
রাতেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট যদি নির্দেশ দেয় তবেই তালিকা প্রকাশ করা হবে। আইনজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যায়নি। গাইডলাইনে যোগ্য অযোগ্য তালিকা প্রকাশের কথা বলা নেই। তাই রিভিউ পিটিশনের আগে কোনও তালিকা প্রকাশ করা হবে না। মধ্যরাতে এসএসসি বিবৃতি দিয়ে জানায়, সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম মেনে চলা হবে। যারা স্কুলে ফিরেছেন, তাদের নিয়ম মাফিক বেতন দেওয়া হবে।
রাতে শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে সামিল হন আরজি করের আন্দোলনকারী চিকিৎসকরাও। শিক্ষকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও করেন তারা। এদিকে আটকে থাকা এসএসসির চেয়ারম্যানের দাবি, "এই আন্দোলনে শিক্ষকরা নেই। বাইরে থেকে বহু আন্দোলনকারীরাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।"
সকালেও শিক্ষকদের আন্দোলনের ঝাঁঝ এতটুকু কমেনি। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, "আমাদের খাবার জল দিয়েছেন চিকিৎসকরা। রাতভর আন্দোলন চলছে। কেউ কোনও সহায়তা করেনি। বায়ো টয়লেট নিয়ে পুলিশ অমানবিক আচরণ দেখিয়েছে। একটা সরকার এতটা নির্মম কীভাবে হতে পারে?"












Click it and Unblock the Notifications