Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

কলকাতা জুড়ে বিনে পয়সার Roll-on-Wheels এর স্বপ্ন দেখেন পথশিশুদের 'রোলকাকু'

কলকাতা জুড়ে বিনে পয়সার Roll-on-Wheels এর স্বপ্ন দেখেন পথশিশুদের 'রোলকাকু'

'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমা চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি'। সপ্তাহান্তে রেষ্টুরেন্ট গিয়ে ভালো মন্দ খাবার জোটে যাদের, সেরকম অধিকাংশের কাছে হয়ত এই বাক্যটার আলাদা কোনও অর্থ বেরোয় না৷ তবে এর মর্ম বোঝে কলকাতার ফুটপাথ। ক্ষিদের জ্বালা ঠিক কীভাবে পূর্ণিমার চাঁদের সৌন্দর্য ম্লান করে দেয়, তা বোঝেন তাঁরা। আর এই ক্ষিদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতেই মহানগরীকে পথ দেখাচ্ছেন পথিকৃৎ। বর্তমানে পেশায় র‍্যাপিডো চালক পথিকৃৎ সাহা একদা জোম্যাটো ডেলিভারি বয় হিসেবে কাজ করতেন। তখন থেকেই অনাহারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু, যা কিনা এখন পৌঁছেছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকাতেও।

২০১৮, দমদমে জন্ম ফুটপাতের বাচ্চাদের 'রোলকাকুর'

২০১৮, দমদমে জন্ম ফুটপাতের বাচ্চাদের 'রোলকাকুর'

শুরুটা দমদম ছাতাকল এলাকার এক ফাস্টফুডের দোকানের 'রোলকাকু'কে দেখে। তাঁর সঙ্গে জুটি বেঁধেই পথশিশুদের সাহায্য করতে নামেন তৎকালীন জোম্যাটো ডেলিভারি বয় পথিকৃৎ সাহা। খেয়াল করেন, প্রতি সপ্তাহে নয় নয় করেও ২০-২১টি অর্ডার বাতিল হয় জোম্যাটোর মাধ্যমে। খাবার প্রস্তুত করার সময় অর্ডার ক্যান্সেল হলে সেই খাবারের দামের ৮০ শতাংশ দোকান মালিককে দিয়ে দেয় জোম্যাটো। আর খাবার তৈরির পর বাক্সে ভরা হলে যদি বাতিল হয়, সেক্ষেত্রে পুরো দামটাই দোকানদারকে দেয় জোম্যাটো। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত অন্য ক্রেতা কিংবা কম দামে জোম্যাটো বয়দেরই ওই খাবার বিক্রি করে দেন দোকানমালিকরা। কিন্তু ব্যতিক্রম হয়ে ওঠেন দমদমের একটি ফাস্টফুড সেন্টারের মালিক৷ মধ্য বয়স্ক এই ব্যবসায়ী বিনামূল্যে ওই রোল দিয়ে দিতেন পথিকৃৎদের হাতে৷ আর এই বিনামূল্যে পাওয়া রোলগুলি নিয়ে পথিকৃৎ পৌঁছে যেতেন দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনের প্লাটফর্মে ও সংলগ্ন ফুটপাতে থাকা শিশুদের কাছে। সপ্তাহের বেশ কয়েকটি দিন এভাবেই শিশুগুলির মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কাজ শুরু পথিকৃৎ-এর। এভাবেই ধীরে ধীরে ফুটপাতের বাচ্চাদের কাছে রোলকাকু হয়ে ওঠা পথিকৃৎ-এর।

দায়িত্ব বাড়ে 'রোলকাকুর', খাবারের পর শিক্ষা হয়ে ওঠে অনাহারের বিরুদ্ধে অস্ত্র!

দায়িত্ব বাড়ে 'রোলকাকুর', খাবারের পর শিক্ষা হয়ে ওঠে অনাহারের বিরুদ্ধে অস্ত্র!

ধীরে ধীরে এভাবেই পথশিশুদের জীবনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে পড়েন পথিকৃৎ। তাড়া করতে শুরু করেন অনাহারের দিগন্তকে। এর আগে এমনিই পথশিশুদের পড়াতেন, তাঁদের পাশে দাঁড়াতেন পথিকৃৎ। সেই সময় তৈরি করেছিলেন 'হেল্প ফাউন্ডেশন' নামক নিজের একটি সংস্থাও। সেই সংস্থা নিয়েই নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়েন পথিকৃৎ। বাতিল হওয়া অর্ডারের খাবার পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ৩০-৪০ জন শিশুর পড়াশোনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে শুরু করেন তাঁরা। শিশুদের বইখাতা কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে তাদের জন্য প্রতিদিনের পুষ্টিকর খাদ্যের বন্দোবস্ত করা, সবটাই করতে শুরু করেন একার উদ্যোগে।

২০১৮ থেকে ২১, তিনবছরে কলকাতা ছাড়িয়ে সুন্দরবনে পা রেখেছে রোল কাকুর উদ্যোগ

২০১৮ থেকে ২১, তিনবছরে কলকাতা ছাড়িয়ে সুন্দরবনে পা রেখেছে রোল কাকুর উদ্যোগ

তাঁর এই অনন্য উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে। তাঁকে নিয়ে খবর লেখে একাধিক সংবাদমাধ্যম। কলকাতায় ফ্যাসাই(fssai) এর স্বীকৃত একমাত্র সংস্থা হয়ে ওঠে 'হেল্প ফাউন্ডেশন'। কাজ ছড়িয়ে পড়ে দূর থেকে দূরে৷ জেলায় জেলায় ঘুরে শিশুদের মুখে পুষ্টিকর খাবার ও হাতে বই-খাতা-পেন তুলে দিতে শুরু করেন পথিকৃৎরা। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত জায়গাতেও পৌঁছে যায় 'হেল্প'৷ সেখানের প্রায় ২০০ জনেরও বেশি শিশুর পুষ্টি, শিক্ষার দায়িত্ব এখন সামলাচ্ছেন তাঁরা।

রোলকাকুর রোল-on-wheels শুরুর স্বপ্ন

রোলকাকুর রোল-on-wheels শুরুর স্বপ্ন

ভবিষ্যতে আর কী করতে চান? নাহ, পথশিশুদের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দিয়ে তাদের অমলিন হাসি ছাড়া আর কিছুই চান না পথিকৃৎ। তবে কাজটা ছড়িয়ে দিতে চান। ভেবেছেন 'রোল অন হুইলস'এর কথা। যেখানে তাঁদের সংস্থার একটি গাড়ি সবসময় ঘুরে বেড়াবে কলকাতার রাস্তায়৷ পথশিশুদের বিনামূল্যে পুষ্টিকর রোল খাওয়াবেন তাঁরা। সাধারণ ফসস্টফুড নয়, পথিকৃৎ-এর পরিকল্পনা, সেই রোলে প্রচুর পরিমান সবজি, চিজ, মেয়োনিজ থাকবে। যাতে সঠিক পুষ্টি পায় ওই শিশুরা। কিন্তু এর জন্য প্রথমেই দরকার একটি গাড়ি।

লড়াই কঠিন তবে হাল ছাড়ছেন না পথশিশুদের রোলকাকু

লড়াই কঠিন তবে হাল ছাড়ছেন না পথশিশুদের রোলকাকু

গাড়ির জন্য একাধিক জায়গায় দরবার করেছেন পথিকৃৎ। তবে লাভের লাভ হয়নি৷ সরকারি সাহায্য তো দূরের কথা। যে জোম্যাটো তাঁর এই জনদরদি কাজের জন্য জাতীয় স্তরে পুরষ্কৃত করেছিল। সেই সংস্থাকেও এই প্রয়োজনের কথা জানিয়ে লাভ হয়নি। তাঁদের তরফ থেকে কোনও উত্তর আসেনি মেইলের। তবু লড়াই ছাড়তে চাইছেন না পথিকৃৎ।

একবার খাইয়ে কর্তব্য শেষ নয়! এ লড়াই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত

একবার খাইয়ে কর্তব্য শেষ নয়! এ লড়াই যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত

তাঁর বক্তব্যে ঘুরেফিরে আসছে একটাই কথা। 'দাদা একবার খাইয়ে কর্তব্য শেষ করতে চাই না আমরা। যতদিন আছি, এভাবেই কাজ করতে চাই অল্প অল্প করে। আমাদের পুঁজি বড়ই কম, আমরা চাই মানুষ এগিয়ে আসুন। একদিনে সমস্ত দানধ্যান না করে, প্রতিমাসে অল্প করে হলেও সাহায্যের হাত বাড়ান। এতেই কিন্তু আখেরে ওদের লাভ হবে৷'

{quiz_662}

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+