মেয়ের স্মৃতি কুঁড়ে খাচ্ছে, সোদপুরের বাড়ির সামনে ধর্নায় অভয়ার বাবা-মা
ষষ্ঠীর আবাহন। ঢাক বাজতে শুরু করে দিয়েছে। বাংলার আবহের পুজোর সুর। তবে প্রতিবাদও চলছে সমানভাবে। আরজি কর কাণ্ডে ধর্ষিতা মৃতা তরুণীর বিচার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন চলছে৷ নিজেদের বাড়ির সামনে ধর্নাতেও বসেছেন মৃতা তরুণী জুনিয়র চিকিৎসকের বাবা- মা।
সোদপুরের নিজেদের বাড়ির সামনেই বাবা - মা ধর্নায় বসেছেন। ষষ্ঠী থেকে এই ধর্না কর্মসূচির কথা ছিল। কিন্তু পঞ্চমীর সন্ধ্যা থেকেই তারা দুজনে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছেন। আত্মীয়-স্বজনরাও আসতে শুরু করেছেন সোদপুরের ওই বাড়িতে।

বাড়ির সামনেই তৈরি হয়েছে মঞ্চ। কালো সাদা কাপড় দিয়ে মঞ্চ তৈরি। এছাড়াও একটি ব্যানার লাগানো হয়েছে মঞ্চের গায়ে। লেখা আছে, " স্মৃতিভারে মোরা পড়ে আছি, ভারমুক্ত, সে এখানে নেই -- শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ। "। গতকাল সন্ধ্যায় মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয় অভয়াকে। বাবা - মায়ের চোখের জল বাঁধ মানেনি আর।
মেয়ের কথা এক মুহূর্তের জন্য ভোলা সম্ভব নয়। বিশেষ করে পুজোর দিনে মেয়ের স্মৃতি জমাট বেঁধে আসছে। নিজের উদ্যোগে অভয়া বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। একা হাতে সব উদ্যোগ নেওয়া। পরপর দুই বছর ধুমধাম করে দুর্গাপুজো হয় বাড়িতে। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব প্রতিবেশী সকলে উপস্থিত হয়েছিলেন দুই বছরের পুজোতে। ভোগ খাওয়া থেকে হুল্লোড়, সব কিছুই চলেছে৷ কিন্তু এবার সব ম্লান। এবার আর পুজো হল না। মেয়েই তো নেই৷ পুজো হবে কী করে? আর কোনও দিন ওই বাড়িতে দুর্গাপুজো হবে কি? সেই প্রশ্নও থাকছে।
এক রাশ কান্না দলা পাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও আত্মীয় - স্বজনের মধ্যে। পাড়া - প্রতিবেশীরাও শোকে মূহ্যমান। এই নৃশংস ঘটনার সঠিক বিচার কবে পাওয়া যাবে? সেই প্রশ্ন সবসময় রয়েছে। পুজোর দিনে মেয়ের স্মৃতি আরও চেপে বসেছে। সেজন্য আর বাড়িতে থাকতে চাননি বাবা - মা। পঞ্চমীর সন্ধ্যার পরেই তাঁরা বাড়ির বাইরে এসে বসেছেন।
পুজোর দিনগুলিতে তাঁরা রোজ বাড়ির সামনে ধর্নামঞ্চে থাকবেন। আত্মীয় - স্বজনরাও থাকবেন। অন্যান্য সাধারণ মানুষরাও এই মঞ্চে উপস্থিত হতে পারেন। সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কাম্য। এই কথা জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications