জরিমানা হিসাবে দু'লাখ না, চার লাখ টাকা মানিক ভট্টাচার্যকে জমা দেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের
দুর্নীতি যে হয়েছে তা কার্যত স্পষ্ট। এই অবস্থায় ক্রমশ নিয়োগ দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়ছেন তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্য। আর এর মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ ঘিরে প্রবল চাপে পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি
আরও অস্বস্তি বাড়ল মানিক ভট্টাচার্যের। জরিমানার অঙ্ক এক ধাক্কায় আরও দু'লাখ বাড়িয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আর তা বাড়িয়ে দেওয়াতে আগামী ১০ দিনের মধ্যে এবার চার লাখ টাকা জরিমানা হিসাবে জমা দিতে হবে। যা কার্যত দ্বিগুণ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতির কাছে যা বড় ধাক্কা হিসাবেই দেখা হচ্ছে। এই মুহূর্তে নিয়োগ দুর্নীতিতে জেলবন্দি রয়েছেন মানিক। আর সেখানে থাকাকালীনই জরিমানার অঙ্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এক নজরে ঘটনা
বলে রাখা প্রয়োজন, মালারানি পাল নামে এক পরীক্ষার্থী সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত আট বছরেও তিনি প্রাথমিকে নিয়োগের পরীক্ষা (টেট)-র ফল জানতে পারেনি। আর তা না জানতে পারার জন্যে গত দু'বছর তিনি টেটে বসতে পারেনি বলে আদালতের কাছে দাবি করেন ওই মহিলা । বলে রাখা প্রয়োজন, ২০১৪ সালে ওই মহিলা টেটে বসেছিলেন। আর সেই পরীক্ষাতে মালারানি উত্তীর্ন হয়ে গিয়েছিলেন কিনা সেটাও জানানো হয়নি বলে দাবি।

২ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়
আর তাতে রীতিমত ক্ষুব্ধ হন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। এই ঘটনা দায়িত্বজ্ঞানহীণ বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি। শুধু তাই নয়, পর্যদের প্রাক্তন সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যকেই দায়ী করা হয়। আর এরপরেই মানিকবাবুকে ২ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আর তা ১০ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার কথাও জানানো হয়। জানুয়ারি মাসে এই নির্দেশ দেওয়ার পর বেশ কটা দিন কেটে গিয়েছে।

১০ দিনের মধ্যে ওই টাকা জমা দিতে হবে।
যদিও এর মধ্যেই এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মানিক ভট্টাচার্জ। যদিও ডিভিশন বেঞ্চ এ নিয়ে এখনও কোনও রায় জানায়নি। আর এর মধ্যেই আজ সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এজলাসে। টাকা না জমা পড়ার কথা সামনে আসে এদিনের শুনানিতে। শুধু তাই নয়, মানিকবাবু তাঁর আইনজীবী নির্দেশ পরিবর্তনের আর্জি জানান। আর এরপরেই ক্ষুব্ধ আদালত জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ করে দেয়। অর্থাৎ দু'লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে চার লক্ষ করেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ, আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই টাকা জমা দিতে হবে।
বলে রাখা প্রয়োজন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সুব্রত তালুকদারের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, সাত দিনের মধ্যে জেলবন্দি মানিককে জরিমানার দু'লক্ষ টাকা দিতে হবে। এবার সেই জরিমানার অঙ্ক দ্বিগুণ করল কলকাতা হাইকোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications