হরিদেবপুরের খুনের ঘটনায় গৃহবধূর সাহায্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ, কিন্তু কীভাবে
কথাতেই আছে 'যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে’। তারই প্রমাণ দিলেন এই সাহসী রমণী! ২১ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করালেন এক গৃহবধূ! শুনে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে। সিনেমার মতো শোনাচ্ছে। তবে এবার খাস কলকাতায় খুনের ঘটনায় অপরাধীকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিলেন এক সাহসী গৃহবধূই। কীভাবে অভিযুক্ত ধরিয়ে দিলেন গৃহবধূ, জানুন।
জানুয়ারি মাসের ২১ তারিখ হরিদেবপুর থানা এলাকার ঘটনা। সেখানকার একটি ভাড়া বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় এক গৃহবধূর দেহ। জানা যায়, স্বামী কার্তিক দাস তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর থেকেই এলাকা থেকে চম্পট দেয় অভিযুক্ত। গ্রেপ্তার এড়াতে বারবার সে তার স্থান পরিবর্তন করে। তবে প্রতিটি শুরুর একটা শেষ তো থাকবেই। এবারও কিন্তু ঠিক তাই হল।

পুলিশ সূত্রের খবর, অভিযুক্তের ছবি কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে এও জানানো হয়েছিল যে ব্যক্তি অপরাধীর খোঁজ দিতে পারবেন, বা অপরাধী সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতে পারলেই দেওয়া হবে পুরষ্কার।
সম্প্রতি, বাসে ওই অভিযুক্তকে দেখতে পান সেই সাহসী গৃহবধূ। তিনিও চিনেও ফেলেন সেই অপরাধীকে। তবে তিনি কিন্তু ভয় পাননি। হরিদেবপুর থানার পুলিশ অফিসারকে তিনি সব জানান। সেই সময় অভিযুক্ত কিন্তু হাওড়া বাস স্ট্যান্ডে নেমে হাওড়া স্টেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তবে সেখানেও ভয় পেয়ে যায়নি সেই সাহসী বধূ। তিনি তার পিছু ধাওয়া করে গোপনে ফোনে তার ভিডিও করে ফেলেন। তিনি ধৃতের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতেই ভিডিও করেন।
আর এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কিন্তু তিনি পুলিশ অফিসারদের শেয়ার করে দেন। আর এই সময়ে হাওড়া জিআরপিএসের দায়িত্বে থাকা ইন্সপেক্টর তপজ্যোতি দাস এবং তার দল হাওড়া স্টেশনে পৌঁছে যান। আর সেখানেই হাজার হাজার যাত্রীর মাঝ খান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় কার্তিক দাসকে। তারপর হরিদেবপুর থানার অফিসার এসে তাকে আটক করেন।
গৃহবধূর সাহস ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ, ন্যায়বিচার পাওয়ানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা এই ঘটনায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে, এমনটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছে কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য পুলিশ গৃহবধূর প্রশংসা করেছে এবং সাহসিকাকে কুর্ণিশ জানিয়েছে। এবং তার হাতে পুরষ্কারও তুলে দেওয়া হয়েছে। গৃহবধূর হাতে ৫০ হাজার টাকা ও একটি সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়েছে কলকাতার পুলিশের তরফ থেকে। বধূর স্বামী পেশায় একজন অটো চালক। গৃহবধূর এই সাহসিকতার প্রশংসা করছেন সকলেই।












Click it and Unblock the Notifications