কাটমানি খায় কাউন্সিলররা, মেয়র সব জানেন, গার্ডেনরিচে পা রেখেই বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকি
গার্ডেনরিচে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন আইএসএফ সুপ্রিমো নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সব জানতেন। বেআইনি নির্মাণের জন্যও কাউন্সিলররা কাটমানি নেন। সেকথা সবটাই জানতেন মেয়র।
গতকাল থেকেই তপ্ত হয়ে রয়েছে গার্ডেনরিচ। রবিবার গভীর রাতে একটি নির্মিয়মাণ বহুতল হুড় মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে একটি ঝুপড়ির উপরে। এখনও পর্যন্ত সেই ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আও কয়েকজন আটকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাজেই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গতকাল থেকেই গার্ডেনরিচ কাণ্ডে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। মেয়র থেকে মুখ্যমন্ত্রী সকলেই স্বীকার করে নিয়েছেন ৫ তলা বাড়ি তোলার অনুমোদন ছিল না প্রোমোটাের কাছে। ২তলার ভিতের উপরে পাঁচ তলা বাড়ি করা হচ্ছিল। পুরসভা তার অনুমোদন দেয়নি। এদিকে বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন সকলেই সব কথা জানতেন। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।
গার্ডেনরিচ এলাকাটি ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। সেখানে এই ধরনের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এদিকে ফিরহাদ হাকিম এই বেআইনি নির্মাণের জন্য বাম আমলকেই দায়ী করেছেন। পাল্টা আবার ফিরহাদকে এই নিয়ে তোপ দেগেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য তিনি অভিযোগ করেছেন ৫ বছরের পুরনো বাড়ির অনুমোদন বাম আমলে কীভাবে সম্ভব।
এদিকে আজ সকালেই গার্ডেনরিচে পৌঁছে গিয়েছিলেন আইএসএফ সুপ্রিমো নৌসাদ সিদ্দিকি। তিনি অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরা কাটমানি নিয়ে বেআইনি নির্মাণের অনুমোদন দেন। মেয়র সেটা ভাল করেই জানেন। এক্ষেত্রেও সেই ঘটনাই ঘটেছে। তবে আগে এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেছেন নওশাদ। তিনি দাবি করেছেন এখন রাজনীতি উর্ধ্বে উঠে আগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
গতকালই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে আহতদের পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা করে সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই হাসপাতালে গিয়ে আহতদের দেখে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশের পরেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত প্রোমোটারকে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলকাতা হাইকোর্টে বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ জারি করেছে। তাতে স্থগিতাদেশ চেয়ে আর্জি করা হয়েছিল আদালতে। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন এই ধরনের মামলার কোনও স্থগিতাদেশ তিনি দেবেন না। এদিকে গতকালের ঘটনার পরে আজ এলাকার ছটি বাড়ি প্রায় হেলে পড়েছে। যেকোনও মুহূর্তে সেগুলি ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে তুমুল হট্টোগোল চলছে শাসক বিরোধী শিবিরে।












Click it and Unblock the Notifications