নিমতলার পর এবার ধাপায় মৃতদেহ সৎকারে বাধা! লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং অমান্য করে বিক্ষোভ
নিমতলার পর এবার ধাপায় মৃতদেহ সৎকারে বাধা! লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং অমান্য করে বিক্ষোভ
রাজ্যে তথা কলকাতায় করোনা ভাইরাসে প্রথম মৃত্যু হওয়া দমদমের প্রৌঢে়র শেষকৃত্যে বাধা দিয়েছিলেন নিমতলার কিছু বাসিন্দা এবং শ্মশানের কর্মীরা। এবার সেই চিত্র দেখা গেল ধাপায়। হাজার হাজার মানুষ সেখানে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিকেল থেকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়েছে ঘটনাস্থলে। চলছে স্থানীয়দের বোঝানোর কাজ।

বেলঘরিয়া রথতলার প্রৌঢ়ের মৃত্যু
বুধবার সকাল ৯.২৫-এ নাগাদ বেলঘরিয়ার এক বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় সেখানকার বাসিন্দা এক প্রৌঢ়ের। কিডনির অসুখ নিয়ে ভর্তি হলেও, মৃত্যু পরে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার রিপোর্ট পজেটিভ আসে বলে জানা গিয়েছে। মৃত্যুর পর দেহ সংরক্ষণ করা হয়েছে নিয়ম মেনেই। পরে বিকেলে দেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

ধাপায় দেহ দাহ করতে বাধা
পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতরের সিদ্ধান্ত মতো এদিন বিকেলে বেলঘরিয়ার প্রৌঢ়ের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধাপায়। যদিও ইএম বাইপাস থেকে ধাপার দিকে ঢুকতেই পারেনি পুলিশ। সেখানে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভব দেখাতে থাকেন। তাঁরা বলে মৃতদেহ পোড়ানোর পরেো জীবানু ছড়াবে। তাই তারা সেখানে দেহ পোড়াতে দেবেন না। যদিও পুলিশের তরফ থেকে বোঝানো হয় সব নিয়ম মেনেই কাজ করা হচ্ছে। আর মৃতদেহ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পোড়ানোর পর তাতে কোনও জীবাণুর অস্তিত্ব থাকে না।

লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং অমান্য করে বিক্ষোভ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার লকডাউন ও সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং-এর কথা বলা হলেও, এদিন বিকেল থেকে তা অমান্য করেন ধাপার বাসিন্দারা।

নিমতলায় মৃতদেহ দাহ করতে বাধার পরেই পুরসভার সিদ্ধান্ত
২৩ মার্চ সোমবার রাত ১০ টা নাগাদ স্থানীয়রা নিমতলায় দেহ দাহ করতে বাধা দেন। খবর যায় কলকাতা পুলিশের কাছে। পরে তাদের হস্তক্ষেপেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তার আগে মৃতদেহ শ্মশানে নিতে টানাপোড়েন চলে বেশ কিছুক্ষণ। সল্টলেকের কোনও শববাহী গাড়িই দেহ নিয়ে যেতে রাজি হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিধাননগর পুলিশ ও পুরসভার সহযোগিতায় দেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলা শ্মশানে। তার আগে দেহ ঠাণ্ডা ঘর থেকে বের করে কেমিক্যাল মাখিয়ে বিশেষ প্যাকেটে ঢোকানো হয়। শববাহী গাড়ির সঙ্গে যান স্বাস্থ্যভবনের এক কর্তা, চিকিৎসকরাও।
পরেরদিনই বিষয়টি নিয়ে কলকাতা পুরসভার তরফে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবার শহরে করোনায় মৃত্যু হলে নিমতলা কিংবা কেওড়াতলায় নয়, ধাপায় পোড়ানো হবে মৃতের দেহ। অন্যদিকে মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বাগমারী কবরস্থানের একটি নির্দিষ্ট জায়গা এরজন্য আলাদা করে ঘিরে দেওয়া হবে। সেখানেই দেওয়া হবে কবর।












Click it and Unblock the Notifications