সুকান্ত মজুমদার একজন লজ্জাহীন-মেরুদণ্ডহীন নেতা, দণ্ডি-বিতর্কে প্রশ্নবাণ ছুড়লেন কুণাল
বিজেপিতে যাওয়ার অপরাধে তিন আদিবাসী মহিলাকে দণ্ডি কাটিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লিখে হস্তক্ষেপ দাবি করলেন। তারপরই সুকান্তকে একহাত নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানালেন সুকান্ত মজুমদার একজন লজ্জাহীন-মেরুদণ্ডহীন নেতা।
দক্ষিণ দিনাজপুরে তৃণমূলে ঘরওয়াপসি নিয়ে দণ্ডি-বিতর্কে রাজনৈতিক তরজা চলছে কয়েকদিন ধরে। রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দিয়ে এই ঘটনাকে তৃণমূল জমানায় মধ্যযুগীয় স্বৈরতন্ত্রের নজির বলে ব্যাখ্যা করেন সুকান্ত। তার পাল্টা তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ জানান, সুকান্ত মজুমদার অযথা কুৎসা করছেন। তৃণমূল আগেই জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না।

কুণাল ঘোষ সুকান্ত মজুমদারের পাল্টা বলেন, শুভেন্দু অধিকারী যখন জঙ্গল কন্যা বীরবাহা হাঁসদার মতো এক আদিবাসী মহিলার সম্বন্ধে বলেছিলেন আমার জুতার তলায় থাকে, তখন কোথায় ছিল সুকান্তবাবুর মানবিকতা। যখন কৈলাশ বিজয়বর্গীয় মহিলাদের শূর্পণখা বলেছিলেন, রাক্ষসী বলেছিলেন, ডাইনি বলেছিলেন তখন তো তিনি রাষ্ট্রপতিকে চিঠি লেখেননি।
কুণাল ঘোষ বলেন, চিঠি তো দূরের কথা, একটা বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা পর্যন্ত প্রার্থনা করেননি। সেদিন কেন সুকান্ত মজুমদার রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেননি? শুভেন্দু অধিকারী সেই ঘটনায় আজও ক্ষমা চাননি। আমরা তো একশোবার বলছি দণ্ডি কাটা অন্যায় হয়েছে। আর এটা তৃণমূল কংগ্রেস বলেছে। সুকান্ত মজুমদার আগে কৈফিয়ত দিক, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ করেনি৷

এদিন সুকান্ত মজুমদারকে একজন অপদার্থ নেতা বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল মুখপাত্র। তিনি বলেন, শুভেন্দুর আড়ালে থেকে তিনি রাজনীতি করছেন। সেই কারণে তাঁর শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস নেই। তিনি এমন একজন নেতা, যিনি নিজের জেলায় নিজের বুথে জিততে পারেন না।
এদিন কুণাল ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও গর্জে ওঠেন। বলেন, শুভেন্দু অধিকারী মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে দেখা যাচ্ছে। তা না হলে বলেন, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দোপাধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। এটা কেউ বলতে পারে? মমতা বন্দোপাধ্যায় আজও রাজীব গান্ধীকে শ্রদ্ধা করেন৷

কুণাল ঘোষ বলেন, মমতা বন্দোপাধ্যায় কারও সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি৷ বরং শুভেন্দু অধিকারী একজন গদ্দার৷ মমতা বন্দোপাধ্যায় গদ্দারি করেননি৷ তিনি দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর শুভেন্দু নিজেকে ইডি-সিবি আই থেকে বাঁচাতে দলবদল করেছেন৷
কুণাল বলেন, সাংগঠনিক বৈঠক ছিল আজ৷ দলের সারা বাংলায় কাজ কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে৷ অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েত নিয়ে। দল গণতান্ত্রিকভাবে ভোট করাবে। প্রয়োজন হলে বিরোধীদের মনোনয়ন, রাজ্য নেতৃত্ব দাঁড়িয়ে থেকে করাবে। অবাধ, গণতান্ত্রিক ভোট হবে।












Click it and Unblock the Notifications