গৃহবধূদের বেকার বলা যাবে না, তাদের কাজও বেতন পাওয়ার যোগ্য, গুরুত্বপূর্ণ মত কলকাতা হাইকোর্টের
বাড়ির মহিলারা কি বিনা বেতনে কেবল সংসার টানার জন্য? অবিরাম, নিত্যদিন বাড়ির মহিলারা কেবল সুগৃহিনী হয়ে নিপুণ দক্ষ হাতে সংসার করে যাবেন? তারা অফিস কাছারিতে চাকরি করে অর্থ উপার্জন করেন না। তাই তাদের কি সংসারের চার দেওয়ালের মধ্যেও তেমন মূল্য নেই?
যুগ যুগ ধরে সাংসারিক 'জাতাকলে' এইসব প্রশ্ন উঠে আসছে। বিস্তর আলোচনা, চর্চাও হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট একটি মামলায় রায় দেওয়ার সময় এমনই মন্তব্য করেছে। সংসারের মহিলারা মোটেও বেকার নন। তারা স্বউপার্জনকারী। সাংসারিক গৃহবধূদের কোনওভাবেই বেকার বলা যাবে না।

এমনই মন্তব্য করেছে, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চ। কিন্তু কেন এমন কথা বলা হল? একটি নজরকাড়া মামলার রায়দান হল এদিন কলকাতা হাইকোর্টে৷ প্রায় ১৫ বছর আগে ঘটনা এটি। ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের বর্ধমানের ক্ষীরপাই গ্রামের রাস্তায় একটি দুর্ঘটনা হয়। রাস্তায় এক মহিলাকে পিষে মেরে দিয়ে যায় একটি বাস।
মৃতার পরিবার অভিযোগ দায়ের করে। বাসের চালক ধরা পড়ে। বর্ধমানের মোটর অ্যাকসিডেন্ট ক্লেম ট্রাইবুনালে মামলা করে মৃতার পরিবার। বাস মালিক সংস্থার থেকে ছয় লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ চাওয়া হয়৷ কিন্তু ওই ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়নি সংস্থা। তবে তারা মৃতার পরিবারকে ১ লক্ষ ৮৯, ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল।
কিন্তু মৃতার পরিবার ওই টাকায় সন্তুষ্ট হয়নি। এবার সরাসরি আদালতে মামলা করা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। মারা যাওয়ার সময় গৃহবধূর সম্ভাব্য উপার্জনের অঙ্ক দিয়েই মামল করা হয়। সেই অঙ্ক হিসেবে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়।
যিনি বেঁচেই নেই, তার আবার উপার্জন কী? সেই কথা দাবি করেছিলেন সংস্থার তরফের আইনজীবী। এছাড়াও বলা হয়, তিনি একজন গৃহবধূ ছিলেন। তার কোনও আর্থিক উপার্জনও ছিল না। তাহলে সম্ভাব্য উপার্জনের উপর এত টাকা দাবি কীভাবে করা হয়!
আর এখানেই বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ। বিচারপতি বলেন, সংসারে গৃহবধূদের অবদান অনেক বড়। কে বলল তারা বেকার? তারা কোনও ছুটি না নিয়ে ৩৬৫ দিন সংসারের কাজকর্ম করেন। বিচারপতির আরও পর্যবেক্ষণ, ওই একই অন্যদের দিয়ে করাতে হলে অর্থ খরচ হত। এক্ষেত্রে সেই টাকা দিতে হয় না। গৃহবধূদের দৌলতেই ওই টাকা সংসারের বাইরে যায় না।
সংসারে গৃহবধূদের আর্থিক মূল্য আছে। তাই তাদের বেকার বলা যাবে না। তাদেরও উপার্জনকারী হিসেবেই দেখতে হবে। এমনই মত কলকাতা হাইকোর্টের। অভিযুক্ত ওই সংস্থাকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, মৃতার পরিবারকে ৬ লক্ষ ৪১ হাজার ২০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
আগে একটা নির্দিষ্ট অর্থ মৃতার পরিবার পেয়েছে৷ সেই অঙ্ক বাদ দিয়ে বাকি টাকা ওই সংস্থা ক্ষতিপূরণ হিসেবে মৃতার পরিবারকে দেবে। এমনই নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের।
-
কালিয়াচক কাণ্ডে উত্তেজনা চরমে! বিচারকদের ঘেরাও-ভাঙচুরে তৃণমূলকে নিশানা সুকান্তর, কী বললেন দিলীপ? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায়












Click it and Unblock the Notifications