দক্ষিণ কলকাতায় একই ঘরে বাবা-মা-মেয়ের ঝুলন্ত দেহ! তদন্ত শুরু পুলিশের
একই ঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
রিজেন্ট পার্কে একই পরিবারের ৩ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু। বাবা মা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় এদিন। পেশায় ব্যবসায়ী বিজয় চট্টোপাধ্যায়, স্ত্রী রানু চট্টোপাধ্যায় এবং তাদের মেয়ে ঐন্দ্রিলার। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আত্মঘাতী হয়েছে এই পরিবার।

রিজেন্ট পার্কে ৩ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু
রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার গঙ্গাপুরী প্রাইমারী স্কুলের উল্টোদিকে আবাসনে থাকত এই পরিবার। ১৯৬/১ মহাবিষ্ণু আবাসনের দোতলার ফ্ল্যাটে থাকতেন ব্যবসায়ী বিজয় চট্টোপাধ্যায়, স্ত্রী রানু চট্টোপাধ্যায় এবং মেয়ে ঐন্দ্রিলা চট্টোপাধ্যায়। কয়েকমাস আগেই তাঁরা ভাড়া নিয়েছিলেন ওই ফ্ল্যাট।

বাবা ব্যবসায়ী, মেয়ে আইনের ছাত্রী
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবা ব্যবসায়ী ও মেয়ে আইনের ছাত্রী ছিল। সম্প্রতি বাড়ির কর্তার ব্যবসায় লোকসান হয়। । পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সেই লোকসান থেকে আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছিল পরিবারে। সেই কারণেই আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বিজয় চট্টোপাধ্যায়ের ব্যবসা করতেন বড়বাজারে। সেখানে আর্থিক ক্ষতির জেরে অনটন চলছিল।

দিন-দুয়েক দেখা যায়নি কাউকেই
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিন দুয়েক চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কাউকেই বাইরে দেখা যায়নি। সেই কারণেই সন্দেহ শুরু হয়েছিল। আর এদিন সকাল থেকে আবাসনের বাসিন্দারা দুর্গন্ধ পেতে শুরু করেন। গন্ধটা আসছিল চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ফ্ল্যাটের দিক থেকেই। এদিন সকালে প্রতিবেশীকে দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করেন। তবে সাড়াশব্দ না পাওয়া ফ্ল্যাটের মালিককে খবর দেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও। পুলিশ আসার পরে দরজা ভেঙে ঢোকে। এরপর একই ঘরে তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।

দেহ পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তে
কলকাতা পুলিশের তরফে দেহ তিনটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। মৃত বিজয় চট্টোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটের মালিক জয়ন্ত মণ্ডল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, কয়েকমাস আগে এই ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল চট্টোপাধ্যায় পরিবার। আগে প্রতিমাসের ভাড়া দিতে পারলেও, সম্প্রতি একমাসের ভাড়া বাকি পড়ছিল। বিজয় চট্টোপাধ্যায় তাঁকে বলেছিলেন মেয়ের টিউশন ফি দিতে হবে। সেই কারণে ভাড়া মেটাতে দেরি হবে। এছাড়াও তিনি জানতে পেরেছিলেন পাঁচমাসের বিদ্যুতের বিলও বকেয়া পড়েছিল। পুলিশ এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর সব দিক খতিয়ে দেখছে। পুলিশের তরফে কথা বলা হচ্ছে আত্মীয়দের সঙ্গে। পাশাপাশি চট্টোপাধ্যায় পরিবারের ফোনের কল লিস্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications