উত্তপ্ত কলকাতা! এলাকা দখল নিয়ে গুলি-বোমাবাজি, অভিযুক্ত পাপ্পু, TMC নেতা ঘনিষ্ঠ? ছবি ভাইরাল হতেই শোরগোল
কলকাতার বুকে ফের দুষ্কৃতী তাণ্ডব। রবীন্দ্র সরোবর থানার অন্তর্গত গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে গুলি এবং বোমাবাজির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এই হিংসা। কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পুর দলের লোকজনই এই হামলার সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, রবিবার সন্ধ্যার সময় গোলপার্কের পঞ্চাননতলায় একটি ক্লাবের পিকনিক চলাকালীন প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। তার পরেই প্রায় ১০০-১৫০ জন দুষ্কৃতী মুখ ঢেকে এলাকায় এসে আক্রমণ করে। গুলি, বোমার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র নিয়েও সেখানে হামলা চালানো হয়। পুলিশের গাড়ি এবং স্থানীয়দের বাইক ভাঙচুর করা হয়। রাস্তায় ছোড়া ইট, গুলির খোল এবং বোমার সুতলি উদ্ধার করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় রক্তের দাগও পাওয়া গিয়েছে।
এই ঘটনায় অন্তত দু'জন আহত হয়েছেন। গণেশ দাস নামে এক যুবকের বুকে গুলি লেগেছে এবং সনৎ সিংহ নামে আরেক জনের মাথায় চোট লেগেছে। বর্তমানে দু'জনেরই এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।
খবর পাওয়ার পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় রবীন্দ্র সরোবর থানার পুলিশ এবং বিশাল বাহিনী। তারপরে সেখানে পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও আসেন। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, গোলপার্ক এবং কসবা এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ যে, কসবা, ঢাকুরিয়া এবং রামলাল বাজার এলাকায় এখন সোনা পাপ্পুই সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম। অভিযোগ উঠেছে যে, কলকাতা পৌরনিগমের ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে এলাকায় প্রভাব বজায় রাখার কাজ করে সে।
এলাকাবাসীদের দাবি যে, যখনই নির্বাচন হয় তার কিছু দিন আগে থেকে বিরোধীদের ভয় দেখানো থেকে শুরু করে ঘরবন্দি করে রাখার কাজেও সোনা পাপ্পুকে ব্যবহার করা হয়। সেইসঙ্গে, মাসখানেক আগেই ৬৭ এবং ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ৫০টির বেশি বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পুরসভায় জমা পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ যে, এই বেআইনি নির্মাণগুলির পিছনেও সোনা পাপ্পুর হাত রয়েছে। শাসক নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই তার বিরুদ্ধে কোনওরকম ব্যবস্থা নেওয়া যায় না বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
গতকাল ঘটনার পরে এলাকায় তৃণমূল কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় আসেন। তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। তাঁদের অভিযোগ যে, এলাকাটি থানার এত কাছে হওয়ার পরেও বারবার এরকম অশান্তি হচ্ছে। যদিও কাউন্সিলরের দাবি যে, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications