ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর দুর্গাপুজোর থিমে এবারেও চমক, বিনোদিনীকে শ্রদ্ধাঞ্জলি
ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর দুর্গাপুজোর এবার ৬১তম বর্ষ। পুজোর থিম বিনোদিনী। গতকাল এই পুজোর উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন বিধায়ক মদন মিত্র।
মদন মিত্র পুজো উদ্বোধনের সময় গান গেয়ে শোনান। তার তারিফ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন সমাজকর্মী কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাউন্সিলর পাপিয়া সিং প্রমুখ।

ভবানীপুর ৭৫ পল্লী তাদের মণ্ডপে শিল্প স্থাপনা, সূক্ষ্ম সেট ডিজাইন, থিম্যাটিক স্থাপত্য এবং আলো ও শব্দের আকর্ষণীয় ব্যবহারের মাধ্যমে বিনোদিনী দাসীর অসাধারণ জীবনযাত্রা জীবন্ত করে তুলেছে। দর্শনার্থীরা তাঁর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়-সাধারণ শুরু থেকে তারকা হয়ে ওঠা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং শেষ জীবনে আধ্যাত্মিক পথের অনুসন্ধান-সবকিছুই অনুভব করতে পারবেন।
১৮৬২ সালে জন্ম নেওয়া বিনোদিনী দাসী সমাজের সমস্ত বাধা পেরিয়ে বাংলার অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। গিরীশচন্দ্র ঘোষের তত্ত্বাবধানে তিনি ৮০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। চৈতন্য লীলা, সীতার বনবাস, মেঘনাদ বধ-এর মতো ক্লাসিক নাটকে তাঁর অনবদ্য অভিনয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের মতো ব্যক্তিত্বদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। তাঁর আত্মজীবনী 'আমার কথা' নারী শিল্পীদের সংগ্রাম ও সাফল্যের এক ঐতিহাসিক দলিল।
ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সম্পাদক সুবীর দাস বলেন, দুর্গাপূজার মণ্ডপ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করেছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই বছরের থিম 'বিনোদিনী' শুধু একটি শৈল্পিক শ্রদ্ধাঞ্জলি নয়, এটি বাংলার সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনকারী নারীদের শক্তি ও ধৈর্যের এক সারণ। এই মণ্ডপের মাধ্যমে আমরা বিনোদিনী দাসীর গল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে চাই।"
এবারের পূজার শৈল্পিক পরিকল্পনা করেছেন অভিজিৎ নন্দী এবং প্রতিমা তৈরি করেছেন পরিমল পাল। বিনোদিনীর জীবনের সংগ্রাম, সাফল্য এবং আধ্যাত্মিক জাগরণের বিভিন্ন পর্যায়কে প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই মণ্ডপে। দেবী দুর্গার প্রতিমা বিনোদিনীর অদম্য আত্মাকে প্রতিফলিত করে, যেখানে ঐতিহ্য এবং রূপান্তরের সারমর্ম একীভূত হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications