১৮০ বছরে পা দিল দাঁ-বাড়ির পুজো, প্রচলিত মতে মর্ত্যে এসে দেবী এই বাড়িতেই গহনা পরতে আসেন

রাজবাড়ির পুজোয় লুকিয়ে কত-শত ইতিহাস, উত্তর কলকাতার দাঁ-বাড়ির অন্দরমহলে ঢুঁ মারা যাক,প্রচলিত মতে মর্ত্যে আসলে দেবী এই বাড়িতেই প্রথম পা রাখেন, এই বাড়িতেই দেবী গহনা পরতে আসেন।

রাজবাড়ির দুর্গাপুজো মানেই নস্ট্যালজিয়া, রাজবাড়ির পুজো মানেই কত-শত বছরের ইতিহাস। উত্তর কলকাতার পুরোনো রাজবাড়ির পুজো বললেই যে পুজোগুলো দেখতেই হবে, তার মধ্যে অন্যতম জোড়াসাঁকো অঞ্চলের শিবকৃষ্ণ দাঁর বনেদি পুজো। এ বছর এই বনেদি বাড়ির পুজো ১৮০ বছরে পা রাখল

কথিত আছে, এই বাড়িতে মা দুর্গা গয়না পরতে আসেন

কথিত আছে, এই বাড়িতে মা দুর্গা গয়না পরতে আসেন

প্রত্যেক বনেদি বাড়ির সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে কোনও না কোন গল্প, কোনও না কোনও বৈশিষ্ট্য। উত্তর কলকাতার জোড়াসাঁকো অঞ্চলের দাঁ-বাড়ির দুর্গা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমনই এক গল্প। কথিত আছে, এই বাড়িতে মা দুর্গা গয়না পরতে আসেন।পুজো শুরু হয় ১৮৪০ সালে। প্রতিমার জন্য একসময় নাকি শিবকৃষ্ণ দাঁ প্যারিস ও জার্মানি থেকে সোনালি রঙের ধাতুর সরঞ্জাম এনে গহনা গড়াতেন। এই বাড়িতে এক চালার চালচিত্রে পুজো হয়। বলা হয়, মা দুর্গা যখন শ্বশুরবাড়িতে আসেন অর্থাৎ মর্ত্যে আসেন, তখন প্রথম দাঁ বাড়িতেই তিনি গয়না পরে সাজগোজ করেন।

পুজো শুরু কীভাবে

পুজো শুরু কীভাবে

দাঁ-বাড়ির পূর্বপুরুষ বর্ধমানের গকুল চন্দ্র দাঁ। নিসন্তান গকুল দাঁ ১৮৪০ সালে কলকাতায় চলে আসেন। কলকাতায় এসে হলধর দত্তের ছোট ছেলে শিবকৃষ্ণ দত্তকে চার বছর বয়সে দত্তক দেন। সেই বছর থেকেই উত্তর কলকাতায় দাঁ-বাড়িতে পুজোর প্রবর্তন। পরিবারের প্রবীন সদস্য অসীম দাঁ বলেন, 'শোনা যায়, শিবকৃষ্ণ দাঁ নিজেকে সুন্দর দেখাতে, সর্বক্ষণ সোনার গহনা পরে থাকতে ভালোবাসতেন। সেখানে থেকে একদিন দুর্গা মাকে সোনার গহনা পরানোর ইচ্ছে জাগে। ইচ্ছা মতো তিনি প্যারিস ও জার্মানি থেকে গহনার সরঞ্জাম নিয়ে এসে দেবীকে পরানো শুরু করেছিলেন। সেই থেকেই প্রচলন, মর্ত্যে দুর্গা প্রথম এই বাড়িতেই গহনা পরতে আসেন।' সেই সময়েই গহনারই বেশ কিছু এখনও রয়েছে, যা চালচিত্রে ব্যবহার করা হয়। তার সঙ্গে বর্তমান সময়ের নকশার গহনা দিয়ে এখন প্রতিমার সাজসজ্জা করা হয়। এই বাড়ির দেবী সাজসজ্জার অনেকটা অংশ জুড়ে সোনা-রুপোর কাজ রয়েছে। দেবীর পোশাকে রয়েছে সাবেকিয়ানার ছাপ।

পুজোর বৈশিষ্ট্য

পুজোর বৈশিষ্ট্য

এবাড়ির সন্ধিপুজোয় বিশেষ রীতি রয়েছে। এ বাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়, তাই বলিদানের নিয়ম নেই। পুজোয় অন্নভোগ হয় না। লুচি, নানা রকমের মিষ্টিতে মিষ্টিভোগ করা হয়। এ বাড়ির সন্ধীপুজো বিশেষ আকর্ষণ। এক মন চালে দেবীকে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। অষ্টমী পুজোর শেষ ও নবমী পুজোর সন্ধীক্ষণ মানে সন্ধিপুজোর সময় ঠাকুর দালান ধোয়া থেকে পুজোর জন্য নৈবেদ্য সাজানো, সবটাই বাড়ির পুরুষ সদস্যরা করে থাকেন। বাড়ির মহিলা সদস্যরা ফল কেটে দিয়ে সাহায্য করে থাকেন। বনেদি বাড়ির পুজায় লুকিয়ে রয়েছে এমনই কত-শত ইতিহাস।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+