বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেডের পুজোর থিম 'শব্দ', পাখির কলতানের মধ্যেই মিলবে বড় বার্তা
নাগরিক জীবনের কলকোলাহলে হারিয়ে গিয়েছে অনেক চেনা শব্দ। যা এখনও সকলের কানে বাজে, মননে গেঁথে রয়েছে। যে শব্দ অনেককেই নিমজ্জিত করে নস্ট্যালজিয়ায়।
বাগুইআটি রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে গেলে তেমনই অনেক পরিচিত শব্দ আপনার কানে আসবে। যা দেবে এক অন্যরকমের অনুভূতি।

এই ক্লাবের পুজোর এবার ৭২তম বছর। ভোরে পাখির ডাক, সন্ধ্যায় পাখিদের কিচিরমিচির, এমনকী রাতের নীরবতায় পেঁচা ও অন্যান্য নিশাচর পাখিদের ডাক শোনা যাবে এই পুজোমণ্ডপে। দ্রুত নগরায়ন, অবাধে গাছ কাটা, কংক্রিটের বাড়ি তৈরির প্রক্রিয়া পাখিদের আবাসস্থলকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আশ্রয়হীন হওয়া পাখিদের আওয়াজও তাই মিলিয়ে গিয়েছে নাগরিক জীবন থেকে।
এই পুজো উদ্যোক্তারা শব্দ থিমের মাধ্যমে যে বার্তা দিতে চাইছেন তা হলো, প্রকৃতির উপর মানবসভ্যতার অনিয়ন্ত্রিত আধিপত্য আখেরে আমাদের পরিবেশগত বড় ক্ষতির দিকেই ঠেলে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যে কারণে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে, যদি না আমরা সকলে এখনই সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ না করি। মণ্ডপের আকর্ষণ হতে চলেছে ২০ ফুট লম্বা একটি পাখির মূর্তি। মাইম পরিবেশনাও থাকবে। পাখিদের অভ্যন্তরীণ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পাখিদের নীরব আবেদন ফুটিয়ে তোলা হবে।
রেল পুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের সদস্য গৌরব বিশ্বাসের কথায়, পাখিদের কণ্ঠস্বর আমাদের পরিবেশের হৃদস্পন্দন। আমরা এর পুনরুদ্ধারের কাজ না করলে আগামীকালের পৃথিবী আরও নীরব হয়ে যাবে। দুর্গাপুজো কেবল উদযাপনের বিষয় নয়, সচেতনতা, দায়িত্ব ও মানবতার জাগরণের বিষয়ও।
এই পুজোর থিম ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে সোমনাথ তামলির নেতৃত্বে। দেবীমূর্তিটি তৈরি করছেন দেবপ্রসাদ হাজরা। লাইট ও সাউন্ডের খেলা উপহার দিচ্ছে দীপঙ্কর দে-র টিম। পাখিদের হয়ে বার্তা দিতে থাকছেন মূকাভিনয় শিল্পী শুভেন্দু মুখোপাধ্যায় ও কৌশিক বিশ্বাস। প্যান্ডেল তৈরির দায়িত্বে বাপি দাস। চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনার দায়িত্বে সমীরণ জানা। গবেষণার মাধ্যমে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকে রূপায়ণ করছেন পৌলমী বোস। অঙ্কন ও নকশায় ফারুক শেখ। শব্দ ও সংগীতে দেবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications