অসাধু ইঞ্জিনিয়ারের বাড়ি থেকে উদ্ধার টাকার পাহাড়, টাকা গুনতে দুপুর গড়িয়ে রাত হল, তবু গোনা শেষ হল না
কলকাতা, ১৪ আগস্ট : মাটিতে লুকনো ছোটবেলার সেই গুপ্তধন উদ্ধারের গল্পকেও হাওড়ার প্রণব অধিকারি হার মানাতে পারেন। হাওড়ার নিতান্তই সাদামাটা চেহারার লোকটির বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বা বলা ভাল হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
পেশায় পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার প্রণববাবু বিল্ডিং বিভাগে কাজ করেন। আর তার দৌলতেই কারোর বাড়ির পুরসভা সংক্রান্ত অনুমতি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মোটা টাকার ঘুষ নিতেন তিনি। এই খবর জানতে পেরে পুলিশ ফাঁদ পাতে আর সেই ফাঁদে জড়িয়ে সবাইকে ভ্যাবাচাকা খাইয়ে দিলেন এই অসাধু পুর ইঞ্জিনিয়ার।

পুরসভার অনুমতি পাইয়ে দেবেন বলে এক শিল্পপতির কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ চান প্রণববাবু। ওই শিল্পপতি বিষয়টি গুণ্ডাদমন শাখার কাছে জানান। সেই অনুযায়ী পুলিশ ফাঁদ পাতে। এই শিল্পপতি প্রণব অধিকারিকে ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার সময় হাতে নাতে তাকে ধরে পুলিশ।
এরপরই প্রণববাবুর বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে যা দেখা গেল তাতে তদন্তকারী অফিসাররাই রীতিমতো ভ্যাবাচাকা খেয়ে গিয়েছেন। দুপুর থেকে শুরু হয়েছে টাকা উদ্ধারের কাজ। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, হল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে, সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত প্রণববাবুর হাওড়ার বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধার যে আর শেষ হচ্ছে না।
মেঝের তলায় টাকার কার্পেট, রান্নাঘরে, শোয়ার ঘরে, সোফার গদিতে, শৌচাগারে কমোডের পিছনে কোথাও বাকি নেই। শুধু টাকা নয়, বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে এক আস্ত টাকা গোনার মেশিন, যা সচরাচর ব্যাঙ্কে থাকে।
উদ্ধার করা টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রথমে একটি বড় ট্রাঙ্ক এল, কিন্তু তাতে সব টাকা না আঁটায় আবার মাঝারি মাপের দুটি ট্রাঙ্ক আসে। তাতেও টাকা ভরল না। এর পর থেকে একের পর এক ট্রাঙ্ক আসছে, আর বাড়ির আনাচে কানাচে থেকেও টাকা বেরচ্ছে।
কিন্তু এত টাকা কোথা থেকে পেলেন প্রণববাবু। শুধুই কী ঘুষের টাকা নাকি অন্য কোনও গল্পও রয়েছে এই বাড়িতে তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে টাকা গুনতে গুনতে কাহিল তদন্তকারীরা। রাত অবধি টাকা গোনা উদ্ধারের কাজও শেষ হয়নি, আর গোনার কাজও নয়। তদন্তকারীদের অনুমান চিরুণী তল্লাশি চালালে এখনও কী পরিমাণ টাকা উদ্ধার হবে তা বলা মুশকিল।












Click it and Unblock the Notifications