কালীপুজোর রাতে দূষণের মাত্রা নিয়ে বড় দাবি নগরপালের, পরিবেশবিদদের কথায় উল্টো চিত্র
এই বছর দীপাবলিতে কলকাতায় শব্দ এবং বায়ু দূষণের মাত্রা গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। এমনই দাবি করলেন নগরপাল মনোজ ভার্মা।
তিনি আরও জানান, এই নিরিখে কলকাতা দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরগুলির তুলনায় ভালো জায়গায় রয়েছে।

কলকাতার পুলিশ কমিশনারের মতে, শহরে উৎসব উদযাপনের সময় নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা কম ঘটেছে এবং বিভিন্ন এলাকায় টহলরত এনফোর্সমেন্ট টিমগুলি নিশ্চিত করেছে যে, এই বছর দূষণ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরী ছিল। সিপির কথায়, "শব্দের মাত্রা ৯০ ডেসিবেলের নীচে ছিল, যা ১২৫ ডেসিবেলের অনুমোদিত সীমার অনেক নীচে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কলকাতার বাতাসের গুণমান ভারতের বেশিরভাগ বড় শহরের তুলনায় ভালো ছিল। রাত ১০টা বা মাঝরাতের ডেটা পর্যালোচনা করার পর আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।"
তবে, পুলিশ কমিশনার এমন দাবি করলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্রই তুলে ধরছে। পরিবেশবিদরা দাবি করেছেন, রাত ১০টার পরেও শহরজুড়ে নিষিদ্ধ উচ্চ ডেসিবেলের বাজি পোড়ানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে শব্দবাজির তাণ্ডব রাত ২টো পর্যন্ত শোনা গিয়েছে। বাসিন্দারা, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা অবিরাম বাজি পোড়ানোর কারণে কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এমনকী চলন্ত ট্রেনের দিকেও বাজি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে, যা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
পরিবেশবিদরা আরও জানান, সোমবার কালীপুজার রাতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানোর অনুমোদিত সময়সীমা লঙ্ঘন করে বাজি ফাটানোর কারণে কলকাতার বাতাসের গুণমান তীব্রভাবে খারাপ হয়েছে। এটি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (WBPCB) এবং পুলিশের নির্দেশিকা অমান্য করার শামিল। পর্ষদের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, রাত ১০টায় শহরের ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মনিটরিং স্টেশনে ১৮৬ AQI (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স) (PM 2.5) রেকর্ড করা হয়েছে। ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে AQI 'খারাপ' বলে বিবেচিত হয়, ২০১ থেকে ৩০০ 'খুব খারাপ' এবং ৩০০ এর উপরে 'মারাত্মক' হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়।
পদ্মপুকুরে AQI ছিল ৩৬১, আর ঘুসুরিতে ছিল ২৫২, উভয়ই হাওড়া জেলায়। কলকাতার বালিগঞ্জে AQI ১৭৩ এবং যাদবপুরে রাত ১০টায় ১৬৯ ছিল। সিঁথি এলাকার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে AQI ১৬৭ তে পৌঁছেছিল বলে PCB আধিকারিক উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও জানান, সোমবার রাত ৮টায় ভিক্টোরিয়ায় AQI ছিল ১৬৪, যাদবপুরে ১৫৯, ফোর্ট উইলিয়ামে ১১৭, বেলুড় মঠে ১৬১, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০২ এবং বালিগঞ্জে ১৩৪।
এদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কালীপুজোর রাতে নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং জুয়া খেলার মতো অবৈধ কার্যকলাপের জন্য কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৬৪০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার রাতে পুজোর সময় ৮৫২.৪৫ কেজি বাজি এবং ৬৮.৪ লিটার মদও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিশৃঙ্খল আচরণের জন্য ৪৫১ জন, অবৈধ বাজি ফাটানোর জন্য ১৮৩ জন এবং জুয়া খেলার জন্য ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ হেলমেটবিহীন পিলিয়ন রাইডার, বাজি ফাটানো, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর জন্য মোট ৮৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য নিরানব্বই জন এবং নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য ১৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
-
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
ইডেনে প্রথম জয়ের সন্ধানে কেকেআর-সানরাইজার্স, দুই দলের একাদশ কেমন হতে পারে? -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
কালিয়াচক কাণ্ডে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের! 'রাজনীতি নয়, বিচারকদের নিরাপত্তাই...', কী কী বলল শীর্ষ আদালত? -
ভোটার তালিকা ইস্যুতে ফের অগ্নিগর্ভ মালদহ, সকালে ফের অবরোধ -
মালদহের ঘটনার তদন্তভার নিল সিবিআই, মমতার তোপে কমিশন -
ভোটের আবহে জলপাইগুড়িতে চাঞ্চল্য, এক্সপ্রেস ট্রেনে জাল নথি সহ ১৪ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা -
'১৫ দিন বাংলায় থাকব', ভবানীপুরে মমতাকে হারানোর ডাক, শাহের চ্যালেঞ্জে তপ্ত রাজনীতি -
কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্ত! দেশের বিভিন্ন শহরে আই-প্যাকের দফতর ও ডিরেক্টরের বাসভবনে ইডি তল্লাশি -
কালিয়াচকে প্রশাসনিক গাফিলতি? জেলাশাসক, পুলিশ সুপারকে শোকজ, CBI অথবা NIA তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট -
৫৪ বছর পর চাঁদের পথে মানুষ, ৪ মহাকাশচারী নিয়ে নাসার 'আর্টেমিস ২'-এ ইতিহাসের নতুন অধ্যায় -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত












Click it and Unblock the Notifications