শুভেন্দু অধিকারীর অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ প্রত্যাহার কলকাতা হাইকোর্টের, সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ
কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিল। এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা চারটি মামলায় রাজ্য সরকার এবং সিবিআইকে যৌথভাবে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এদিন শুক্রবার এই নির্দেশ দিয়েছেন।
২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা শুভেন্দুকে এই অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন। সেখানে বলা হয়েছিল হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ বা এফআইআর দায়ের করা যাবে না। এর ফলে এতদিন বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছিল না।

বিচারপতি সেনগুপ্ত শুক্রবার স্পষ্ট জানান, কোনও অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দীর্ঘদিন চলতে পারে না। তাই এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া শুভেন্দুর বিরুদ্ধে থাকা ১৫টি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই নির্দেশের বিষয়ে বিরোধী দলনেতা বা তাঁর আইনজীবীদের কোনও বক্তব্য থাকলে তা আগামী সোমবারের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।
এই রায়ের ফলে রাজ্য সরকার এখন শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারবে। যা এতদিন সম্ভব ছিল না। একাধিক মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং পরবর্তী পদক্ষেপের পথ উন্মুক্ত হল। যা ভোটের আগে অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ ছিল, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে এবং ছোট-বড় সব ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়ানো হচ্ছে। এই এফআইআরগুলিকে ভুয়ো আখ্যা দিয়ে তিনি ২০২১ এবং ২০২২ সালে দু'বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
সেই সময় বিচারপতি মান্থা এফআইআরগুলিতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া নতুন করে কোনও এফআইআর দায়ের নিষিদ্ধ করেন। রাজ্য সরকার এই নির্দেশকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করলেও শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্য সরকার নানাভাবে বিরোধী দলনেতার গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবে বলে শুভেন্দুর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্যের আশঙ্কা। রাজ্য পুলিশের উপর আস্থা না থাকায় সিবিআইকে সিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications