নরেন্দ্রপুরে শিক্ষক নিগ্রহে পুলিশের বয়ানে অসন্তুষ্ট! বিচারপতির নিশানায় শিক্ষা দফতরের দুই সহ অধিকর্তা
নরেন্দ্রপুরের স্কুলে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধরের ঘটনায় হাইকোর্টে ভর্ৎসিত পুলিশ। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও কেন কাউকে গ্রেপ্তার করা গেল না, প্রশ্ন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর। পুলিশকে তাঁর প্রশ্ন, 'এতোদিন কি চোখে কাপড় বেঁধেছিলেন?' দুপুর দুটোর মধ্যে বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপারের রিপোর্ট তলব করেন তিনিয নির্দেশে বলেন, শুনানি চলাকালীন ভারচুয়ালি উপস্থিত থাকতে হবে তাঁকে। আইসিকে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এই সব পঞ্চায়েত সদস্য এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে, বলেন বিচারপতি।
সোমবারের নির্দেশের পর থেকে ৩-৪ জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। কাউকে পাওয়া যায়নি। কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। আদালতে জানান সরকারি আইনজীবী। পঞ্চায়েত সদস্যকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি ! এটা কিভাবে সম্ভব, পাল্টা মন্তব্য বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর। তিনি বলেন, পুলিশ সুপারকে বলুন, অবিলম্বে বিষয়টি দেখতে। বিচারপতি আরও বলেন, তাঁকে (বারুইপুরের পুলিশ সুপার) তো তিনি ব্যক্তিগত ভাবে বিষয়টা দেখতে বলেছিলেন।

শিক্ষা দফতরের দুই সহঅধিকর্তা তপন কুমার সিনহা ও অনিন্দ্য কুমার চট্টোপাধ্যায়ের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ বিচারপতি। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, স্কুলে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে দুই সহ-অধিকর্তা কী করেছেন? তিনি আরও প্রশ্ন করেন, জেলা স্কুল পরিদর্শকের দুটি রিপোর্টে আর্থিক দুর্নীতির কথা বলা হয়েছিল, সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হল না কেন?
শিক্ষা দফতরের কমিশনারকে যে অভিযোগ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জানিয়েছিলেন সেগুলো কেন খতিয়ে দেখলেন না শিক্ষা দফতরের দুই-সহ অধিকর্তা? বিচারপতির আরও প্রশ্ন, এই সহ অধিকর্তারা কি পঞ্চায়েত সদস্যের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিলেন? স্কুলে যে ঘটনা ঘটেছে সেখানে চক্রান্তে জড়িত থাকার অভিযোগে সহঅধিকর্তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির 120B ধারায় মামলা হওয়া উচিত, বলেন বিচারপতি।
প্রসঙ্গত শনিবার নরেন্দ্রপুরের স্কুলে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেধড়ক মারধর করে বহিরাগতরা। স্কুলের ভিতরেও ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকার মোবাইল ভেঙে ফেলে হয়। বহিরাগতদের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের ওপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে। আক্রান্ত শিক্ষক-শিক্ষিকারা অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের মদত রয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ গিয়ে পুরো পরিস্থিতি সামাল দেয়।
অন্যদিকে স্কুলে তাণ্ডব ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধরের ঘটনা পড়ুয়াদের মনে প্রভাব ফেলেছে, তারা স্কুলে আসতে ভয় পাচ্ছে। এদিনও অনেক কম পড়ুয়া স্কুলে এসেছে বলে জানিয়েছেন, বলরামপুর মন্মথনাথ বিদ্যামন্দিরের প্রাথমিক বিভাগের প্রধান শিক্ষক। তিনি মনে নিয়েছেন, স্কুলের পরিচালন সমিতিতে স্থানীয়দের প্রভাব বেশি রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications