ব্রিগেডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চার মন্তব্য! সভা শেষে ঢোঁক গিলছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একাংশ

২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ পার করার স্লোটগান দিয়ে কাছেও পৌঁছাতে পারেনি বিজেপি। বহিরাগত প্রশ্নে জেরবার হতে হয়েছিল বিজেপিকে। বাংলার মেয়েকে চাইয়ের স্লোগানে হার মানতে হয়েছিল গেরুয়া শিবিরকে। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে সেই বহিরাগত তকমাটা ঘুরে গিয়েছে তৃণমূলের দিকেই। অন্তত জনগর্জন সভা থেকে ৪২ জনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে।

সাধাসিধে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই শুধু নন, বহিরাগত প্রশ্নে ভিরমি খাচ্ছেন তৃণমূলের মুখপাত্রদের কেউ কেউ। বিজেপির সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারীদের বাংলায় কি প্রার্থী কম পড়িয়াছে কটাক্ষে কৃশানু মিত্রের মতো নেতারা বলছেন, তৃণমূল মর্যাদা দিতে জানে।

আসলে এদিন তৃণমূলের জনগর্জন সভার সুর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বাঁধতে চেয়েছিলেন ভূমিপুত্র আর বহিরাগত তফাতে। কিন্তু সভার শেষে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় তিন বহিরাগত থাকায় ঢোঁক গিলতে বাধ্য হচ্ছেন তৃণমূলের নেতা কর্মীদের একাংশ।

এদিন ব্রিগেডের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের আক্রমণ করতে গিয়ে বাংলায় কথা বলতে না পারা এবং বহিরাগত বলে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যারা বাংলায় কথা বলতে পারেন না, তাঁদের কথার গ্যারান্টি কোথায়? প্রসঙ্গত বাংলায় প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী 'মোদীর গ্যারান্টি'র কথা বলেছিলেন। এদিন তারই উত্তর দিচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের আক্রমণ করতে গিয়ে বাংলার ভূমিপুত্র না বহিরাগতদের বিশ্বাস করবেন, সেই প্রশ্নও করেন। স্বাভাবিকভাবে ব্রিগেডে যাওয়া জনগণ উত্তরে বলেন, বাংলার ভূমিপুত্র। কিন্তু যত গোল বাঁধল প্রার্থী তালিকা ঘোষণা পরে।

এদিন তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরে দেখা যায়, সরাসরি তিন বহিরাগত রয়েছেন প্রার্থী তালিকায়। তাঁদের একজন হলেন, আসানসোল থেকে বর্ষীয়ান অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা, বহরমপুর থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর থেকে কীর্তি আজাদ। এঁদের মধ্যে শত্রুঘ্ন সিনহা কালে ভদ্রে দু-এক কলি বাংলা বলতে পারলেও ইউসুফ পাঠান এবং কীর্তি আজাদ একেবারেই তা পারেন না। যে কারণে সুকান্ত মজুমদার-শুভেন্দু অধিকারীরা প্রশ্ন করেছেন, বাংলায় কি প্রার্থী কম পড়িয়াছে?

এছাড়াও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন মন্তব্য করেন, তৃণমূল সিপিআইএম-মাওবাদীদের বন্দুকের নলের জবাব দিয়েছে। তৃণমূলের একাংশের প্রশ্ন বাম শাসনের শেষের দিকে জঙ্গলমহলে জন সাধারণের কমিটির নেতৃত্ব দেওয়া ছত্রধর মাহাতোর যোগাযোগ কাদের সঙ্গে ছিল। আর আড়ালে থেকে একের পর এক খুনে অভিযুক্ত সুচিত্রা মাহাত কিংবা জাগরী বাস্কেরাই বা কোন দল থেকে কোন দলে যোগ দিয়েছিলেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, যে ভাষণ দেয় না যে রেশন দেয়, কার পক্ষে থাকবেন? স্বাভাবিক ভাবেই উত্তর আসে যে রেশন দেয়। অনেকে না জানলেও অনেকেই জানেন, রেশনের সিংহভাগ খরচ কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে থাকে। তবে সেখানে রাজ্য সরকারকে বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা দিতে হয়, সবার কাছে রেশন পৌঁছে দিতে।

ফলে এদিন ব্রিগেডের সভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য বুমেরাং হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের দিকেই। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+